21.7 C
Dhaka
১১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার , ২০১৮ ০৮:১৬:২৬ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
অপরাধ প্রবাস সাম্প্রতিক

লটারির নামে ৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

ভয়েস বাংলা ডেস্ক: টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল জিনের বাদশাহ নামের একটি প্রতারক চক্র। গভীর রাতে এসকে টিভিতে প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে চোখ আটকে যায় সিঙ্গাপুরপ্রবাসী সোহেল মোল্লার। ১০ লাখ ডলারের একটি লটারি পেতে বিজ্ঞাপনে দেয়া নম্বরে ফোন দেন তিনি। হাদিয়া দিলে শুধু লটারি নয়, মিলবে সব সমস্যার সমাধান!

এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে জিনের বাদশাহর চাহিদা অনুযায়ী প্রথম দফায় দুই লাখ টাকা পাঠায় সোহেল। পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় ৪ বছর ধরে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নাম করে ৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জিনের বাদশাহ নামের এই প্রতারক চক্র। ১৬ জনের এ চক্রটিকে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ চক্রের মূলহোতা ছিল ভোলার বোরহানউদ্দিনের তুহিন নামের এক ব্যক্তি। সে মারা যাওয়ার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে ছোট দু্ই ভাই মো. কাজল ও সাগর এ প্রতারণা করে আসছিল। সম্প্রতি এ চক্রের সদস্য দুই ভাইসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানান সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজীব ফারহান।

সূত্র জানায়, ১৭ আগস্ট ভোলার বোরহানউদ্দিনে করা একটি মামলা তদন্ত শুরু করে সিআইডি। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে জিনের বাদশাহ চক্রের ১৬ জনকে শনাক্ত করে তারা। সম্প্রতি তিনজনকে গ্রেফতারের পর জিনের বাদশাহ পরিচয়ে প্রতারক চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। এ চক্রের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে বিকাশের কিছু অসাধু এজেন্ট জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। এরই মধ্যে শামিম নামের এক বিকাশ এজেন্টকে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে বিজ্ঞাপন দেখে এ চক্রের ফাঁদে পা দেন প্রবাসী সোহেল মোল্লা। জিন দিয়ে তদবির করে ১০ লাখ ডলারের একটি লটারি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রথমে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। একজন বড় মাপের হুজুর লটারির তদবিরে বাধা সৃষ্টি করছে বলে তাকে ম্যানেজ করতে এ প্রতারক চক্রকে কয়েক দফায় টাকা দেন সোহেল।

তাতেও যখন কাজ হচ্ছিল না, তখন লটারিতে জিনের আসর বসানোর জন্য ১০০ কেজি খাঁটি গরুর দুধ, জিনের রানীর মায়ের শাড়ি, ৩০০ কেজি চিনি, কলা, ২৫টি পাঁঠা, ২১টি সাদা রঙের বলদ গরু, আড়াই লাখ টাকার ফল ও জিনের পরিস্থান থেকে ৩ লাখ টাকার ১০টি জায়নামাজ দিতে বলা হয়। এ চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে টাকা দিতে দিতে পরিবার ও প্রেমিকার সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট হয় সোহেলের। পরিবার ও প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করে দেয়ার কথা বলেও কয়েক দফায় টাকা নেয় চক্রটি। এভাবে ৪২ লাখ টাকা হারিয়ে এখন নিঃস্ব সোহেল।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলেন, জিন দিয়ে সব সমস্যা সমাধানের কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। চক্রের মূল টার্গেট প্রবাসী শ্রমিক ও তাদের আত্মীয়স্বজন। অল্প পড়াশোনা করে শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যান তারা। সেখানে গিয়ে নানামুখী সমস্যায় পড়েন। আর এসব সমস্যা গোপনে সমাধানের আশায় ভণ্ড ও প্রতারক চক্রের খপ্পরে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হন তারা। কর্মকর্তারা আরও বলেন, মানুষ সচেতন হলে এ ধরনের প্রতারণা চক্রের তৎপরতা কমে আসবে।

#ভয়েস বাংলা/আকাআ

সম্পর্কিত

আমিরাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক রিপোর্ট

ইরানের ওপর সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট

আবারো চালু হচ্ছে বহুল আলোচিত অনুষ্ঠান ‘সবিনয় জানতে চাই’ 

ডেস্ক রিপোর্ট

নভেম্বরে মুক্তি পাচ্ছে ‘হাসিনা-অ্যা ডটার’স টেল’

ডেস্ক রিপোর্ট

কর্মস্থলে বোরকা নিষিদ্ধ করলো আলজেরিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট

কুয়েতে ‘চট্টগ্রাম কমিউনিটি’র কমিটি ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত