22 C
Dhaka
১৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার , ২০১৮ ১২:২৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
আন্তর্জাতিক

যে কারণে মাঝপথ থেকে পৃথিবীতে ফিরে এলো রাশিয়ার সয়ুজ রকেট

রাশিয়ার উৎক্ষেপন করা একটি সয়ুজ রকেটে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এর দুই নভোচারীকে বহনকারী ক্যাপসুলটি ফিরে এসেছে এবং নিরাপদে কাজাখাস্তানে অবতরণ করেছে। রুশ নভোচারী আলেক্সেই ওভচিনিন এবং মার্কিন নভোচারী নিক হেগ এই রকেটে চড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (আইএসএস) যাচ্ছিলেন। তাঁরা দু’জনই ভালো এবং নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়েছে। নভোচারীদের বহনকারী ক্যাপসুলটি কাজাখাস্তানের যে অঞ্চলে অবতরণ করেছে সেখানে তাঁদের খোঁজে তল্লাশি দল পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য নভোচারীদের বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপন করা হয় বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে। এটি ছয় ঘন্টা পর আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পৌঁছানোর কথা ছিলো। কিন্তু সয়ুজ রকেটের ‘বুস্টারে’ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এটিকে ‘ব্যালিস্টিক ডিসেন্ট মোডে’ পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয় বলে জানিয়েছে নাসা।
‘ব্যালিস্টিক ডিসেন্ট মোড’ মানে হচ্ছে সাধারণত যে কোনাকুনি পথে কোনো রকেট পৃথিবীতে ফিরে আসে, তার চেয়ে অনেক খাড়া বা সোজা পথে এটিকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো।

রুশ নভোচারী আলেক্সেই ওভচিনিন এবং মার্কিন নভোচারী নিক হেগ আগামী ছয় মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে থাকবেন বলে কথা ছিলো।
রুশ নির্মিত সয়ুজ রকেটের ডিজাইন করা হয়েছে কয়েক দশক আগে। কিন্তু এটিকে এখনো বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ রকেটগুলোর একটি বলে মনে করা হয়।

এই মূহুর্তে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য এই সয়ুজ রকেটই একমাত্র ভরসা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ যান কর্মসূচি শাটল বন্ধ করে দেওয়া হয় অনেক বছর আগে।

যে কারিগরি ত্রুটির কারণে রকেটটি তার যাত্রা শেষ করতে পারলো না, তাকে মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘স্টেজিং।’ উপরে উঠতে থাকা রকেটের যে অংশগুলোর জ্বালানি এর মধ্যে শেষ হয়ে গেছে, সেই খালি অংশগুলোকে খসিয়ে দেওয়ার নাম স্টেজিং। বলা হচ্ছে এই স্টেজিং-এর সময় রকেটে থাকা দুই নভোচারী আঁচ করতে পেরেছিলেন যে, কোনো একটা গোলমাল হয়েছে। কারণ, তাঁরা ওজনহীনতায় ভুগছিলেন। ঐ সময় তাদের ওজনহীন থাকার কথা নয়, বরং তাঁদের বসে থাকা আসনের দিকে প্রবল টান অনুভব করার কথা। এ ধরনের পরিস্থিতিতেই নভোচারীদের ‘এসকেপ সিস্টেম’ ব্যবহার করতে বলা হয়।
দুই নভোচারীর পৃথিবীতে ফিরে আসার যাত্রা খুব স্বস্তিকর ছিলো না বলেই মনে করা হচ্ছে। যে রকম খাড়া পথে তাঁরা ফিরে আসেন, তাতে প্রচন্ড মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁদের।

রাশিয়ার রকেট কর্মসূচির বর্তমান হাল নিয়ে নানান আলোচনা চলছে। তাঁরা আগের বছরগুলোর মতো তাঁদের মহাকাশযানের মান বজায় রাখতে পারছে কি না সে প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার পর এ নিয়ে উদ্বেগ যে আরো বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র তার শাটল কর্মসূচি পরিত্যাগ করার পর এখন একটি নতুন রকেট সিস্টেম উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে। আগামী বছর এই নতুন রকেট উৎক্ষেপন করার কথা।

ভয়েস বাংলা # ইই

সম্পর্কিত পোস্ট

জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেবে অস্ট্রেলিয়া

Taher

মালয়েশিয়ার উপ-নির্বাচনে বিজয়ী আনোয়ার ইব্রাহিম

Taher

মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে মালয়েশিয়া

Taher

মতামত দিন