ইয়াসির ইয়ামীন: রবি শাস্ত্রী টিম ইন্ডিয়া’য় শামিল হলেন কীভাবে? কোন প্রেক্ষাপটে? চলুন একটু পেছনে তাকাই।

২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে ১-৩ ব্যবধানে সিরিজ হারলেও লর্ডসে টেস্ট জিতেছিলো ভারতীয় দল। তবু কোচ ডানকান ফ্লেচারকে বরখাস্ত করে বিসিসিআই। একইসংগে চাকরি হারান দুই সাপোর্ট স্টাফ বোলিং কোচ- জো ডয়েস এবং ফিল্ডিং কোচ- ট্রেভর পেনি। এরপরই রবি শাস্ত্রী টিম ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। তাঁর সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে যোগ দেন সঞ্জয় বাঙ্গার (ব্যাটিং কোচ), ভরত অরুণ (বোলিং কোচ) ও আর. শ্রীধর (ফিল্ডিং কোচ)। শাস্ত্রী’র নিযুক্তির সময় বিরাট কোহলি’র মতামতও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে বিসিসিআই। বলা হয়েছিলো, বিরাট-শাস্ত্রী রসায়নই ভারতকে অদম্য ‘টিম ইন্ডিয়া’ বানাতে সক্ষম হবে।

এখন শোনা যায়, ভারতীয় দলে বিরাট কোহলির যাবতীয় পছন্দেই ঘাড় নেড়ে সায় দেন কোচ রবি শাস্ত্রী। দু’জনের হাতেই নাকি ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব ক্ষমতা কুক্ষিগত। অভিযোগ আরো আছে। রবি শাস্ত্রী নাকি দলকে ছুটির মেজাজে রাখতে বেশি পছন্দ করেন। কেউ কেউ এমনও বলছেন, নেট প্র্যাকটিসের ব্যাপারে তাঁকে বোধহয় বিরাট কোহলির সম্মতি আদায় করতে হয়।

চলতি সফরের আগে ভারতীয় শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, সিরিজ জিতে ফিরবেন বিরাটরা। বড় বড় কথা বলেছিলেন টিম ডিরেক্টর শাস্ত্রীও। বলেছিলেন, ‘এই দল কোনো অজুহাত দেবে না। আমিও কোনো সুযোগ দেবো না।’

শাস্ত্রী ‘পুওর ট্র্যাভেলার্স’ তকমা ছুঁড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন। ব্লকবাস্টার সিরিজ বলা হচ্ছিলো এটিকে। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো, ক্রিকেট বিশ্বে কেউ এখন ‘গুড ট্র্যাভেলার্স’ নেই। যে যার নিজের দেশেই ভালো খেলছে।

সিরিজ শুরুর আগে শাস্ত্রী সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন, ‘ইংল্যান্ডের সুইং সামলাতে প্রস্তুত ভারত। আর পাঁচটা ইংল্যান্ড সফরের মতো এবার হতাশ হতে হবে না ভারতীয় সমর্থকদের।’ কিন্তু দেখা গেলো, ইংল্যান্ডের সুইংয়ের জুজুতে দিশাহারা বিরাট বাহিনী।

ফলাফল- দুই ইনিংস মিলিয়ে লর্ডসে ভারতীয় দল খেলেছে সাকুল্যে ৮২.২ ওভার। এর মধ্যে প্রথম ইনিংসে ৩৫.২ ওভারে অল-আউট হয়েছে মাত্র ১০৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে টিম ইন্ডিয়া খতম ১৩০ রানে। দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে ভারতীয় মিডিয়ায়ও প্রশ্ন উঠেছে, ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার কি ঘাস কাটেন? ক’দিন তিনি নেটে টেনে আনতে পেরেছেন টিম ইন্ডিয়া’র তথাকথিত মহাতারকাদের?

ইনজুরি আতংক এবং খারাপ সময়

একে তো দল হারছে বেজায় খারাপভাবে। এর মাঝে কাপ্তান কোহলি’র পিঠের নিচের ব্যথা টেনশন বাড়িয়েছে গোটা শিবিরে। অধিনায়ক সম্পূর্ণ ফিট না থাকা মানে তো ‘বিরাট ব্রিগেড’ও মোটামুটি অচল। যদিও কোহলি বার্তা দিয়েছেন, ‘একশো শতাংশ ফিট হতে না পারলেও আমি খেলবো।’ এছাড়া লর্ডস টেস্টে আঙুলে চোট পেয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং হাতে ব্যথা পেয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া।

ক্রিকেটে খারাপ সময় এলে তার প্রভাব কতোদিকে গড়ায়?
মাত্র সপ্তাহখানেক আগে টেস্ট র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছিলেন বিরাট। কিন্তু লর্ডস টেস্টের ফলাফল তাঁর ও ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনলো। এক থেকে দুইয়ে নেমে গেছেন কাপ্তান কোহলি। আবারো এক নম্বরে ফিরেছেন এই মুহূর্তে ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ।

তবে তৃতীয় টেস্টের আগে ভারতীয় দলের জন্য খুশির খবর হলো- অধিনায়ক বিরাট কোহলি’র পিঠের ব্যথা অনেকটাই কমেছে। নেটে ব্যাটও করেছেন তিনি।

রোহিত শর্মা’র আর্জি …সমর্থকদের খোঁচা

দলের ভয়াবহতম পরাজয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেটার রোহিত শর্মা দলের পাশে থাকার আর্জি জানিয়েছেন ভক্ত-সমর্থকদের প্রতি। এই আর্জিতে ‘হ্যাঁ’ মিলিয়েছেন মিলেনিয়াম হিরো অমিতাভ বচ্চনও। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকরা তো একটু বেয়াড়াই হয়।

রোহিত শর্মা টুইট করেছিলেন, ‘এটা ভুলো না, এই প্লেয়াররাই ভারতকে এক নম্বর করেছে। যখন খারাপ সময় যায়, তখন আরেকটু পাশে থাকা যায়। এটা আমাদের টিম।’

জবাবে এক সমর্থক লিখেছেন, ‘এটা ভুললে চলবে না, এই প্লেয়াররাই (তার মধ্যে আপনিও আছেন) অ্যাওয়ে সিরিজে ফেল করে। এক নম্বরে পৌঁছেছে ঘরের মাঠে খেলে।’

আরেকজন বলেছেন, ‘এক বছর ধরে ঘরের মাঠে খেলে এক নম্বর হয়েছে এই দল। বাইরে খেললে কোথাও থাকতো না।’

আরেক সমর্থক তো লিখলেন, ‘দেশ সঙ্কট মে হ্যায়।’

ভয়েস বাংলা # ইই