27 C
Dhaka
১১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার , ২০১৮ ০২:১৫:৩৩ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
চলো বিদেশ

জাপানে স্বপ্নের ঠিকানা

রিয়াদ রহমান

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে জাপানে উচ্চ শিক্ষা এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে জাপানের অর্থনীতি বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম। তবে সে তুলনায় লোকবল দিনদিনই কমছে। বিশ্ব জনসংখ্যা রিভিউ রিপোর্ট -২০১০ অনুযায়ী, জাপানের জনসংখ্যা গত ৫ বছরেই কমে গেছে প্রায় ১০ লাখ। এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে দক্ষ জনশক্তিকে জাপানে চাকরি ও শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার । আর এই  তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো ।

main

জাপান কেন যাবেন

জাপানের শিক্ষা আন্তর্জাতিক মানের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৮০টি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক অনেক কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সাপ্তাহিক ২৮ ঘণ্টা পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে জাপান সরকার, যা ইউরোপ-আমেরিকার অনেক উন্নত দেশেও নেই। এছাড়া, বার্ষিক ছুটির সময়কাজের সময় নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রথম অবস্থায় জাপানে প্রতি ঘণ্টায় পার্টটাইম কাজের বেতন সর্বনিম্ন ১০০০ থেকে ১২০০ জাপানি ইয়েন। দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেতনও বাড়তে থাকে।

জাপানে যে বিষয়ে পড়াশোনা করা যাবে

জাপানে প্রায় সব বিষয়েই পড়াশোনার সুযোগ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য_ হিউম্যান স্টাডিজ, লিঙ্গুগুয়িস্টিক স্টাডিজ, হিস্টোরিক্যাল স্টাডিজ, হিউম্যান সায়েন্স, এডুকেশনাল সায়েন্স, ল অ্যান্ড সোসাইটি, পাবলিক ল অ্যান্ড পলিসি, ইকোনমিক্স, ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্ট্যান্সি, ফিজিক্স, অ্যাস্ট্রোনমি, জিওফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, আর্থ সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, ডিজঅ্যাবিলিটি সায়েন্স, ডেন্টিস্ট্রি, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স, লাইফ সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল সিস্টেস অ্যান্ড ডিজাইন, ন্যানোমেকানিক্স, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম সায়েন্স অ্যান্ড এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ইত্যাদি।

জাপানের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো:

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের প্রায় ৯.৫ শতাংশই জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। জাপানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের এই ব্যাপক চাহিদার কারণ হচ্ছে, জাপানে ছাত্রছাত্রীরা যুগোপযোগী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে শুরু করে যে কোন বিষয়ে জাপানী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনার বিস্তৃত সুযোগ। জাপানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেয়া হলো:

4-kyoto-university

ইউনিভার্সিটি অব টোকিও, ওসাকা ইউনিভার্সিটি, ওকায়ামা ইউনিভার্সিটি, টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স, টোকিও ইউনিভার্সিট, হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি, টোকিও মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি, ওসাকা সিটি ইউনিভার্সিটি, তোকুশিমা ইউনিভার্সিটি, ইয়োকো হামা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

কোর্সের মেয়াদ ও যোগ্যতা

এডুকেশন ভিসা নিয়ে অনেকেই জাপান যচ্ছেন। আপনি যদি এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তবে ব্যাচেলর্স ডিগ্রি বা গ্রাজুয়েশন এবং ব্যাচেলর্স ডিগ্রিতে উত্তীর্ণ হলে মাস্টার্সে বা পোস্ট গ্রাজুয়েশনে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ব্যাচেলর্ ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি ও ডক্টরেট প্রোগ্রামে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য আপনি জাপানে যেতে পারেন। রয়েছে ১ বছর ৩ মাস থেকে ২ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সও। ব্যাচেলর্স ডিগ্রির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই চার বছর মেয়াদি কোর্স পড়িয়ে থাকে। আর মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য রয়েছে দুই বছরে মেয়াদি কোর্স।

প্রথম ধাপের প্রস্তুতি

জাপানী ভাষার জিএলপিটি এন ফাইভ(JLPT N5) কোর্স শেষ করে আপনি জাপানে পড়াশুনা ও চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন। সে জন্য প্রাথমিকভাবে ভাষা শেখার কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। আর ভাষা শেখার কোর্সটি শেষ করতে সময় লাগবে তিন থেকে চার মাস। এছাড়া রয়েছে দেড় বছর মেয়াদি অ্যাডভান্স ল্যাংগুয়েজ কোর্স। তবে জিএলপিটি এন ফাইভ শর্ট কোর্সটি করলে চলবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

university-of-tokyo

জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতা সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়া যায় । কোর্স শুরু হওয়ার অন্তত ২/৩ মাস আগে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ঢাকায় জাপান দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করে স্টাডি পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার আবেদন ফর্ম এবং শিক্ষা পরিকল্পনা হতে হবে নিখুঁত। সাথে নিজস্ব কোন গবেষণা, প্রকাশনা বা জাপানের কোন শিক্ষকের সাথে প্রোজেক্ট অথবা জয়েন্ট স্টাডি করার অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে সেটিও প্রোফাইলে উল্লেখ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আবেদনটি আরো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।

যাওয়ার আগে পদক্ষেপসমূহঃ

 

  • জাপানি ভাষা কোর্স সম্পন্ন করার পর, দ্বিতীয় ধাপে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনার সব একাডেমিক সনদ ও কাগজপত্রের মূল কপি জমা দিতে হবে।

 

  • আবেদনপত্র সহ একাডেমিক মূল কাগজপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি, স্পন্সর ডকুমেন্টস, ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট(কমপক্ষে ১২ লাখ টাকা) দেখাতে হবে।

 

(ইউরোপের দেশগুলোর মতো জাপান যেতে নিজের নামে ব্যাংক স্টেটমেন্টের ঝামেলও পোহাতে হবে না। মা, বাবা, ভাই, বোন কিংবা নিকট আত্মীয় যে কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ১২ লাখ টাকা দেখালেই হবে। ফলে, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা্ও জাপানে উচ্চ শিক্ষা বা চাকরির জন্য যেতে পারে।)

 

  • ১৫০ ঘন্টার জাপানি ভাষা কোর্সের পরীক্ষার সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে
  • সমস্ত কাগজপত্র কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রহন করার পর অফার লেটার ইস্যু করা হবে
  • সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অফার লেটার সহ সব ডকুমেন্টস জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে
  • ৯০ দিনের মধ্যে বিচার মন্ত্রণালয় থেকে ভিসা সনদ ইস্যু করা হবে
  • ভিসা পাওয়ার পর টিউশন ফি ছাত্রের নিজের এ্যাকউন্ট থেকে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে হবে (বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্তাবলী অনুসরণ করে)

 

টিউশন ফি

এখানে জীবনযাত্রা এবং পড়ালেখার খরচ যে কোন দেশের চাইতে অনেক বেশি। জাপানে সরকারি ও বেসরকারি এই দুই উপায়েই বৃত্তি বা ফান্ডিং পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোন কোন ক্ষেত্রে চাইলে ফান্ডিং যোগার করে দিতে পারেন। সেজন্য মুল উপায় হচ্ছে তাদেরকে মেইল করা বা অন্য কোনভাবে পরিচিত হওয়া। এক্ষেত্রে একটি উপায় হচ্ছে বিভিন্ন এডুকেশন ফেয়ার বা শিক্ষা মেলায় সরাসরি যাওয়া। সরকারি স্কলারশিপ বা বৃত্তির জন্য দুই ভাবে আবেদন করা যায়। বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের মাধ্যমে অথবা জাপানের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। যার মধ্যে ২য় পন্হাটাই সহজ।

 

 

বাসস্থান সুবিধা

জাপানে বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের বসবাসের জন্য চার ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- স্টুডেন্ট ডরমিটরি বা হোস্টেল, স্থানীয় সরকারের বরাদ্দ করা পাবলিক হাউজিং, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার স্টাফ ডরমিটরি এবং ব্যক্তিগত ভাড়া বাসা। জাপানে একজন শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ বাবদ মাসে ত্রিশ হাজার টাকা খরচ হবে ।
শিক্ষার্থীরা আরও যে সব সুবিধা পাবেন

  • পাঁচ বছর থাকার পর কোন শিক্ষার্থী চাইলে পি আর বা স্থায়ী বসবাস জন্য আবেদন করতে পারবেন
  • শিক্ষর্থীদের জন্য রয়েছে ১২০ ঘন্টা খন্ডকালীন কাজের সুযোগ । সাপ্তাহিক ছুটিরদিনেও কাজ করতে পারবেন তারা
  • জাপানে প্রতি ঘন্টা খন্ডকালীন কাজ করলে ১০০০ থেকে ১২০০ বাংলাদেশি টাকা আয় করা যায়, এবং মাস শেষে যা বাংলাদেশী টাকায় ১ লাখের মতো।
  • একজন শীক্ষার্থী পড়ালেখা চলাকালীন সময় তার সমস্ত খরচ বাদ দিয়েও দেশে ৭০ থেকে ৮০ হাজার থেকে টাকা পাঠাতে পারবে।

সম্পর্কিত

বিনা খরচে কাতার

zeus

পোলান্ডে উচ্চশিক্ষা শেষে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

zeus

অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

zeus

উচ্চশিক্ষার নতুন গন্তব্য শ্রীলংকা

ডেস্ক রিপোর্ট

তেহরানে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ৪ ক্ষুদে বিজ্ঞানী

ডেস্ক রিপোর্ট

৬ হাজার নতুন কর্মী নিবে কাতার

zeus

২ মতামত

মতামত