ভয়েস বাংলা ডেস্ক:  বিদেশি সংস্থায় চাকরির জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লিয়েনে ছুটি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। আবার লিয়েনে গিয়ে কর্মকর্তাদের চাকরিতে না ফেরার ঘটনাও ঘটছে বহু। এতে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ওই ব্যাক্তির কারণে থেমে থাকছে প্রয়োজনীয় কাজ। বিষয়টি আমলে নিয়ে সরকার লিয়েনে ছুটির শর্ত কঠোর করছে। একনাগাড়ে বা বিচ্ছিন্নভাবে কোনো সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ চার বছরের বেশি লিয়েনে ছুটি নিতে পারবেন না। এর বেশি থাকলে চার বছর পূর্তির দিন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হবেন।

লিয়েন ছুটি শেষে কোনো কর্মকর্তা এক বছর সরকারি চাকরি না করে দ্বিতীয়বার এ ছুটিতে যেতে পারবেন না। এমন বিধান যুক্ত করে বিদ্যমান ‘বৈদেশিক চাকরিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগ সম্পর্কিত নীতি ও পদ্ধতি’ সংশোধন করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আগামী প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে এ নীতি উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর নীতিমালাটি কার্যকর হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংগঠনসহ যে কোনো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থায় চাকরির জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক দফায় পাঁচ বছর পর্যন্ত লিয়েন নিতে পারেন। লিয়েনের মেয়াদ শেষে দেশে এসে কিছুকাল চাকরি করার পর আবারও লিয়েনে যেতে পারেন। এ ছাড়া সরকার বিশেষ বিবেচনায় লিয়েনের মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশিও করতে পারে। এ নীতিমালার সুযোগে অনেক কর্মকর্তা বারবার লিয়েনে ছুটি নেন। আবার ছুটি মঞ্জুর হওয়ার আগেই বিদেশি সংস্থায় যোগ দিয়ে পরে ছুটির আবেদন করেন। অনেকে লিয়েন শেষ হওয়ার পরও চাকরিতে ফিরতে দেরি করেন। এসব কারণে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

লিয়েনে থাকার সময়ে একদিকে সরকারের সব সুবিধা ভোগ করেন, অন্যদিকে তারা বিদেশি যে সংস্থায় চাকরি করেন সেখান থেকে মোটা অঙ্কের সম্মানি নেন। এমন সুবিধা ভোগ করতেই সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের লিয়েনে যাওয়া নিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এ প্রবণতা কমাতেই লিয়েনে ছুটির শর্ত কঠোর হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ-সংক্রান্ত কমিটি বিদ্যমান নীতিমালার শিরোনাম সংশোধন করে ‘বৈদেশিক চাকরিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগ এবং গণকর্মচারীদের বৈদেশিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বপদে লিয়েন সংরক্ষণ-সম্পর্কিত নীতি ও পদ্ধতি’ প্রস্তাব করেছে।