22 C
Dhaka
১৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার , ২০১৮ ১২:২৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
জাতীয় স্বাস্থ্য

বাংলাদেশে গড় আয়ু বাড়ছে যে কারণে

আজ থেকে ১০ বছর আগে (২০০৮) বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিলো ৬৬ বছর আট মাস। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর। অর্থাৎ এক দশকে দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে পাঁচ বছর দুই মাস। মূলতঃ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার উৎকর্ষের কারণেই এই আয়ু বাড়ছে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষায় অগ্রগতি এবং দারিদ্র্য হ্রাস এক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা গেছে, দেশে পুরুষের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু দুই বছর নয় মাস বেশি। পুরুষদের গড় আয়ু ৭০ বছর ছয় মাস এবং নারীদের ৭৩ বছর পাঁচ মাস। পুরুষ এবং নারীর গড় হিসাবে আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭২ বছর। এক দশক আগে ২০০৮ সালে দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিলো ৬৬ বছর আট মাস। তখন নারীদের গড় আয়ু ছিলো ৬৮ বছর এবং পুরুষের গড় আয়ু ছিলো ৬৫ বছর ছয় মাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরিম-লেও নারীর গড় আয়ু পুরুষের তুলনায় বেশি। শারীরিক গঠনের কারণেই নারীর গড় আয়ু বেশি হয়ে থাকে।

১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে তিনটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তৃতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচিতে ৫১ হাজার ৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশুসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিসেবা এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ গড় আয়ু বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। গত বছর চতুর্থ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। দারিদ্র্যের হারের সংগেও গড় আয়ু বৃদ্ধির সংযোগ রয়েছে।

বিবিএস-এর জরিপ অনুযায়ী, ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিলো ৩১ দশমিক পাঁচ শতাংশ। একই সময়ে হতদরিদ্রের হার ছিলো ১৭ দশমিক ছয় শতাংশ। ২০১৬ সালে এই হার ২৪ দশমিক তিন শতাংশে এবং হতদরিদ্রের হার ১২ দশমিক নয় শতাংশে নেমে আসে। ২০১০ সালে গড় আয়ু ছিলো ৬৭ দশমিক সাত শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৭১ বছর ছয় মাস। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার কমে ২২ দশমিক তিন শতাংশে নেমেছে, হতদরিদ্রের হারও নেমে এসেছে ১১ দশমিক দুই শতাংশে। এর সংগে সংগতি রেখে ২০১৭ সালে গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭২ বছর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এলে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে সরকারি সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসা খাতে দরিদ্র মানুষের খরচ কমে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গড় আয়ুর দেশ জাপান। এশিয়ার দেশটির মানুষের গড় আয়ু ৮৩ বছর সাত মাস। এর পর রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (৮৩ বছর চার মাস), সিঙ্গাপুর (৮৩ বছর এক মাস) অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন (৮২ বছর আট মাস) ইত্যাদি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপে মানুষের গড় আয়ু ৭৮ বছর পাঁচ মাস, শ্রীলংকায় ৭৪ বছর নয় মাস, নেপালে ৬৯ বছর দুই মাস, ভারতে ৬৮ বছর তিন মাস এবং পাকিস্তানে ৬৬ বছর চার মাস। অর্থাৎ বিশ্বের অন্য দেশের সংগে পাল্লা দিয়ে এক্ষেত্রে বাংলাদেশও এগিয়ে চলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ বিপর্যয় রোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনার প্রতি আগের যে কোনো দশকের চেয়ে সচেতন হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এটিকে আরো ইতিবাচক সূচকে উন্নীত করতে হলে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আরো বেশি মাত্রায় জাগ্রত করতে হবে।

# ভয়েস বাংলা/ এটি

সম্পর্কিত পোস্ট

বেদনাবিধুর ১৫ আগস্ট আজ

Doyel Islam

বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চেয়ে রিট

Doyel Islam

সৈয়দপুরে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ১০ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

Doyel Islam

মতামত দিন