22 C
Dhaka
১৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার , ২০১৮ ১২:২৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
  • হোম
  • টেক ভয়েস
  • স্মার্টফোন আসক্তিতে কমছে শিশু-কিশোরদের চিন্তাশক্তি
টেক ভয়েস

স্মার্টফোন আসক্তিতে কমছে শিশু-কিশোরদের চিন্তাশক্তি

আবু তাহের: স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে আমাদের কর্মদক্ষতা ও চিন্তাশক্তি। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা স্মার্টফোনের প্রতি অতিমাত্রায় ঝুঁকে পড়ছে। সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে এই প্রবণতা অতিমাত্রায় তাদের দৈহিক ও মানসিক ক্ষতি করছে। যা পর্যায়ক্রমে তাদের ঠেলে দিচ্ছে মানসিক অসুস্থতার দিকে। এতে এক পর্যায়ে এসব শিশু-কিশোরের মধ্যে সহিংস হয়ে ওঠার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চালানো বিভিন্ন জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৯০ ভাগ সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ও গেমার ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়েসি। গবেষকদের মতে, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার। জরিপের তথ্য অনুসারে, দেশে কিশোর-কিশোরীরা ‘সাইবার বুলিং’-এর শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন গেমসে আসক্তদের সাইবার বুলিং-এর ঝুঁকি বেশি। মূলতঃ কোনো শিশুকে প্রলুব্ধ বা হেয় করা, ভয় দেখানো এবং মানসিক নির্যাতন করা বুঝাতে ‘সাইবার বুলিং’ (ঈুনবৎ ইঁষষুরহম) শব্দ দু’টি ব্যবহৃত হয়)। যা এক পর্যায়ে ওই কিশোর-কিশোরীদের মানসিকভাবে অসুস্থ করে তোলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সব মানসিক অসুস্থতার অর্ধেক শুরু হয় ১৪ বছর বয়সে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা থেকে যায় অগোচরে। বয়ঃসন্ধিকালে এই রোগের কারণে বিষন্নতা দেখা দেয়; যা এই রোগের তৃতীয় প্রধান লক্ষণ। এছাড়া ১৫-২৯ বছর বয়েসিদের মধ্যে আত্মহত্যার কারণও এই মানসিক রোগ; যা এই রোগের দ্বিতীয় প্রধান লক্ষণ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, অনেক দেশে বয়স্কদের মধ্যে অ্যালকোহল এবং অবৈধ ওষুধের ক্ষতিকর ব্যবহার মানসিক অসুস্থতার প্রধান কারণ। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক বা বিপজ্জনক ড্রাইভিংও মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। অল্প বয়সে মানসিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা আরো জানিয়েছে, বিশ্বে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়েসিদের প্রতি ছয়জনের একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত। মানসিক রোগ সাধারণত ১৪ বছর বয়সে শুরু হয়, যা প্রাথমিক অবস্থায় পরিলক্ষিত হয় না। অবসাদ এই রোগের প্রধান লক্ষণ। যে কারণে এই বয়েসিদের মধ্যে দিন দিন আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এটিকে বিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় অন্যতম প্রধান কারণ বলা হয়। কোনো কারণে বেঁচে থাকলেও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে বাঁচে এই রোগে আক্রান্তরা।

যৌন সমস্যাও কিশোর-কিশোরীদের আরেকটি প্রধান মানসিক সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালের শুরু থেকেই কিশোর-কিশোরীরা যৌন সমস্যার বিষয়ে ভুল ধারণা নিয়ে বেড়ে ওঠে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা এ থেকে মুক্তি পেতে রাস্তায় যৌন ওষুধ বিক্রেতা এবং কবিরাজদের শরণাপন্ন হয়। এতে রোগ তো সারেই না, বরং দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। ফলে মানসিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এরা।

কিশোর-কিশোরীদের মানসিক রোগের বিবরণ দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক ডা. মো. মাসুদ রানা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মানুষ একেবারে পাগল হয়ে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাকে ওষুধ দিয়ে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু মানসিক সমস্যা শারীরিক সমস্যায় রূপান্তরিত হলে তা ভয়ংকর হয়ে দাঁড়ায়। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি লক্ষ্য করা যায়। একে বলা হয় ‘কনভারশন ডিজঅর্ডার’। যার কোনো নিউরোলজিক্যাল কারণ নেই। যেমন রোগী মনে করছে সে হাঁটতে পারে না। মস্তিষ্কের এমন নির্দেশনার কারণে ধীরে ধীরে তার পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। এসব মানসিক সমস্যা থেকে এই বয়েসিদের নিরাপদে রাখতে অবিভাবকদের ভূমিকাই মুখ্য।

শিশু-কিশোরদের অতিমাত্রায় স্মার্টফোনের আসক্তি নিয়ে শঙ্কিত গবেষকরা। প্রযুক্তির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ার জন্য কি শিশুরাই দায়ী, নাকি অভিভাবকরাও?

সম্প্রতি বিবিসি লার্নিংয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, স্মার্ট ডিভাইস শিশু-কিশোরদের জন্য কীভাবে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়ে খুব কমই জানেন অভিভাবকরা। জরিপে অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের এক-পঞ্চমাংশ জানিয়েছে, তারা স্মার্টফোনে এমন কিছু দেখেছে যা তাদের আহত করেছে। অথচ অভিভাবকদের খুব কম অংশই মনে করেন এমনটি ঘটতে পারে। আরেক তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ অভিভাবকই মনিটর করেন না যে, তাঁদের সন্তানরা স্মার্টফোন থেকে অনলাইনে গিয়ে কী করছে। নিরাপদ ইন্টারনেট দিবসের অংশ হিসেবে বিবিসি লার্নিং-এর এই জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ অভিভাবকই সন্তানদের অনলাইন কনটেন্ট থেকে সতর্ক করলেও মনিটর করেন না। মূলতঃ স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসি’র কল্যাণেই অনলাইনে শিশু-কিশোরদের আনাগোনা বাড়ছে। এতে সতর্কতা অবলম্বন না করলে শিশু-কিশোররা অনুপযোগী অনেক কিছুরই মুখোমুখি হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া ভয়াবহ এই স্মার্ট ডিভাইস থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষা করতে শুধু শিশুদের মাঝে সচেতনতা বাড়ালেই চলবে না, সতর্ক থাকতে হবে অভিভাবকদেরও। তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে শিশু-কিশোরদের অভিজ্ঞ করে তুলতে গিয়ে তাদের কতোটা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তা ভাবিয়ে তুলেছে মানসিক স্বাস্থ্য গবেষকদের। প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষ করে তুলতে গিয়ে নতুন প্রজম্মকে কী দিতে চাচ্ছি আমরা এবং কোন্ পথে তাদের ধাবিত করছি, তা নিয়ে এখনই সচেতন হওয়া দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

# ভয়েস বাংলা/ এটি

সম্পর্কিত পোস্ট

সাইবার পুলিশ সেন্টার করছে সরকার

Taher

মতামত দিন