বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেনের হল রুমে জরুরি মতবিনিময় সভা

164

ফখরুদ্দিন রাজি: পাসপোর্ট জটিলতা নিরসন কল্পে স্পেনের মাদ্রিদে অবস্হিত বাংলাদেশ এম্বাসী মিলনায়তনে স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐক্যের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর নেতৃত্বে এক জরুরী ও ঐতিহাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকারের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপুর্ণ মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির সহ কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের সামাজিক, আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্হিত থেকে ভিকটিমদের পক্ষ থেকে দাবীদাওয়ার বিষয়সমুহ তুলে ধরেন, এসময় ভিকটিমদের পক্ষ থেকে সানাউল্লাহ মিয়া উপস্হিত হয়ে কান্নাবিজড়িত কন্ঠে তার সাগর মরু পরিক্রমা ও সংগীদের সলিল সমাধির স্মৃতি রোমন্হন করে স্বপ্নের ইউরোপে সুদীর্ঘ ৭ বছরের মানবেতর জীবনযাপনের কথা জানান, তিনি আরো জানান এই দীর্ঘ সময় পর তিনি নাম পরিবর্তন করে স্পেনে বসবাসের বৈধতা অর্জন করেন। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য, বৈধতা অর্জনের আটমাসের মধ্যেও তিনি তার পরিবর্তিত নামে বাংলাদেশীপাসপোর্ট সাবমিট করতে না পারার কারনে আগামী দুইমাসের মধ্যে তার বৈধতার সনদ বাতিল হতে চলেছে। এসময় গোটা হলরুম জুড়ে পিনপতন নিরবতায় শোকের আবহ বিরাজকরে। এ সময় জানা যায় শুধু স্পেনেই এ জাতীয় ক্ষুদ্র জটিলতায় প্রায় ১৭৫ জন বাংলাদেশী বৈধতা অর্জনের পরও উক্ত বৈধতার সনদ হারাতে চলেছেন।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে পাড়ি জমানো জাজাবর দেশ হিতৈষী মানুষের প্রথম পছন্দ ইউরোপ। ইউরোপের স্বপ্নের সোনার হরিন ধরতে এই মানুষেরা ভিটেমাটি বিক্রি করেও সাগর মরুতে অঘোরে প্রাণ হারাতে হয় প্রায়ঃশই। সব জেনেও দূর্দম স্বপ্নচারী এসব মানুষ এ পথেই পা বাড়ান অকুতোভয়ে। এই সব মানুষেরা ইউরোপে প্রবেশের পর শুরু হয় বৈধতা অর্জনের নতুন সংগ্রাম। মানুষ আশ্রয় নেয় ডানবাম কৌশলের, উন্নয়নশীল দরিদ্রদেশ হিসেবে বাংলাদেশ অথরিটিও তা মেনে নিয়ে এইসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা থাকলেও সম্প্রতিক দিনগুলোতে
আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনে ভুক্তভোগী মানুষের ভোগান্তিই শুধু বাড়ছে। এই ধারাবাহিকতায় ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ বৈধতা অর্জনের পর পুনরায় অবৈধ হয়ে গেছেন। অভিভাবক বাংলাদেশ দূতাবাস তথা পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের এহেন অসহযোগীতায় এইসব মানুষের সামনে এখন পুনরায় সাগরের লোনাজলে আত্মাহুতি দেয়া ব্যতীত আর কোন গত্যন্তর নেই।
নিজ পরিবার ও দেশমাতৃকার সেবক এইসব মৃতুঞ্জয়ী মানুষ পাসপোর্ট বিহীন হয়ে অবশেষে দেশ পরিচয়হীন হয়ে পড়েছে।
মানবতার উৎকর্ষের ইউরোপে এইসব মানুষের প্রতি স্বদেশের মানবতা মুখথুবড়ে পড়ায় কিংকর্তব্যবিমুখ হয়ে পড়েছে এইসব দূর্ভাগা বাংলামায়ের সন্তানেরা।

মাদ্রিদের বাংলাদেশ এম্বাসীতে অনুষ্ঠিত এই সভা থেকে এম্বাসীর মাধ্যমে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই সমস্যা সমাধানের জোরদাবী জানানো হয়, অন্যথায় সংক্ষুব্দ ভিকটিমদের মরিয়া হয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড ও বিশৃংখলায় জড়িত হয়ে পড়লে অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাসকেই যাবতীয় দায় দায়িত্ব বহন করতে হবে বলে উপস্হিত কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করেন।

এ সময় উপস্হিত ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর সিনিয়র সহসভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, সাবেক সেক্রেটরী মিনহাজুল আলম, ভালিয়েন্তে বাংলার ফজলে এলাহী, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব স্পেনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক বকুল খান, যুগ্ম সম্পাদক দবির তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুদ্দীন রাজি, কমিউনিটি নেতা বেলাল আহমেদ, জহিরুল ইসলাম নয়ন, মোহাম্মদ সেলিম, আবুলকাশেম, সোহেল ভূঁইয়া, আলআমিন মিয়া, শাহ আলম,
,আইয়ুব আলী, এস এম মাসুদ, জাকির হোসেন, ইসলাম উদ্দিন, একরামুল হক, আব্দুর রহমান, আব্দুল গফুর মিলন
হানিফ মিয়াজী সহ আরো অনেকে।

রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার এসময় আগত কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে অচিরেই এই বিষয়ে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে আশুপদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন, এসময় অনেকেই বলেন আর আশ্বাস নয় এবার আশ্বাসের বাস্তবায়ন চাই।