8.6 C
Dhaka
১৬ ডিসেম্বর, রবিবার , ২০১৮ ০৯:৫০:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
পাঁচমিশালী প্রচ্ছদ

ব্লু-হোয়েলের পর আত্মঘাতী গেম মোমো, ছড়াচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে, বাঁচতে কী করবেন?

আনজার শোয়াইব: হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ছে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার প্রাণঘাতী নতুন গেম ‘মোমো চ্যালেঞ্জ সুইসাইড’। শিশুদের অনলাইন গেম মাইন ক্রাফটেও তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মোমো’। ব্লু-হোয়েল আতংকের মতোই এটি থাবা বিস্তার করছে বিশ্বব্যাপী। এই গেমের ফাঁদে পা দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে আর্জেন্টিনার ১২ বছর বয়েসি এক কিশোরী।

ব্লু-হোয়েল গেমে একেক দিন একেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হতো। কখনো দিনভর ঘরবন্দি রাখার চ্যালেঞ্জ তো, কখনো ছাদের ধার ঘেঁষে হাঁটার। সবশেষে খেলার নিয়ম মেনে আত্মঘাতী হতে হতো প্রতিযোগীকে। মোমো চ্যালেঞ্জও প্রায় তেমনই। ইতিমধ্যে এটিও সুইসাইড গেম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। একটি অদ্ভুত প্রাণী টিনএজারদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। যার ফাঁদে পা দিলেই মৃত্যু আসন্ন।

ব্রিটেনের একটি ওয়েবসাইট ‘দ্যসান ডট কো ডট ইউকে’ জানিয়েছে, প্রাণঘাতী গেম ‘মোমো’ ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি এবং নেপালসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। ‘নিউজ ডট কম ডট এইউ’ নামের এক ওয়েবসাইট জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ‘মোমো’র ছবি শেয়ার করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আইরেসে আত্মঘাতী হয়েছে ১২ বছরের এক কিশোরী। বাড়ির পেছনের জমিতে মেয়েটির মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

‘মোমো’ মূলতঃ একটি মেয়ের ছবি। যার দু’টি চোখ কোটর ঠেলে বেরিয়ে আসছে। পা দু’টি পাখির মতো। পায়ের আঙুল ও নখগুলো বড় বড়। মুখটা ভীষণ চওড়া। মাথা লম্বা। চুলগুলো ঘন-কালো, দুই কানের পাশ দিয়ে তা অনেকখানি নেমে এসেছে। মাথায় একইসংগে চুল ও টাকের অস্তিত্ব। জাপানি শিল্পী মিদোরি হায়াশি ২০১৬ সালে টোকিও’র ভ্যানিলা গ্যালারিতে একটি শিল্প প্রদর্শনীর জন্যই ‘মোমো’র এই ছবি এঁকেছিলেন।

জানা গেছে, হোয়াটসঅ্যাপের এই ‘গেম’ জাপানের আইএসডি কোডসহ তিনটি ফোন নম্বরের। কলম্বিয়ার আইএসডি কোডসহ দু’টি এবং মেক্সিকোর আইএসডি কোডসহ আরও একটি নম্বরের সংগে সংযুক্ত। অপরাধ নিয়ে কাজ করা মেক্সিকো’র একটি পুলিশ ইউনিট বলছে, ‘এটা শুরু হয় ফেসবুকে। কেউ কেউ একে অন্যকে প্রলুব্ধ করে একটি অপরিচিত ফোন নম্বরে ‘কল’ করার জন্য।’

মেক্সিকোর পুলিশ বলছে, অন্তত ৫টি কারণে ‘মোমো’-কে এড়িয়ে চলা উচিত। এটি হিংসা, এমনকি আত্মহত্যায় প্রলুব্ধ করে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে। মোমো ব্যবহারকারী নানান হয়রানির শিকার হতে পারেন। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে মোমো ব্যবহারকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লোপাট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া মেমো ব্যবহারকারী মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। আক্রান্ত হতে পারেন উদ্বেগ, বিষন্নতা ও অনিদ্রাজনিত রোগে।

তবে কতিপয় সাইবার এক্সপার্ট বলছেন, বাস্তবে এমন কোনো অনলাইন গেম নেই। একটি অদ্ভুত প্রাণীর ছবি ভাইরাল করে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর চেষ্টা চলছে। তাই এটি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

কোনো কোনো সাইবার বিশেষজ্ঞ বলছেন, কোনো অচেনা নম্বর থেকে মোমো’র ছবিটি হোয়াটসঅ্যাপে এলে সংগে সংগে সেই নম্বর ব্লক করে দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। স্পেনের পুলিশ জানিয়েছে, মোমো নামের চ্যালেঞ্জটি সম্পূর্ণ ধাপ্পাবাজি। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।

# ভয়েস বাংলা/ ইই

সম্পর্কিত

আস্থাহীনতার কারণে বেড়েই চলেছে বিবাহ বিচ্ছেদ

zeus

আমিরাতে বাংলাদেশি বোরকা ব্যবসায়ীদের দুর্দিন

ডেস্ক রিপোর্ট

জাম্বিয়াতেও বাংলাদেশিরা! বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারের নতুন সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে সিনেটর পদে বিজয়ী হলেন বাংলাদেশি চন্দন

ডেস্ক রিপোর্ট

অর্থ পাচার মামলায় নাজিবের বিরুদ্ধে আরো তিন অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট

সৌদি আরবে ব‌হিস্কারের হুমকিতে অভিবাসীরা

zeus

মতামত