21.8 C
Dhaka
৮ ডিসেম্বর, শনিবার , ২০১৮ ০৭:০০:৪০ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
প্রচ্ছদ প্রবাস এক্সক্লুসিভ

কুয়েতে দালালদের কাছে জিম্মি বাংলাদেশি শ্রমিকরা

IMAGE-EDITerttttt3343434657567567-300x222আশফাক দোয়েল:বিদেশ যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা ব্যয় হওয়া দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত অন্যতম। কিন্তু ভালো কাজ আর আয়ের আশায় এতো টাকা খরচ করেও সে দেশে গিয়ে কাঙ্খিত কাজ পাচ্ছে না বাংলাদেশিরা। অনেক বাংলাদেশি শ্রমিককে দেখা যায় কুয়েতের অলিতে গলিতে পেপসি ক্যান টোকাতে। স্বল্প বেতনে সংসারের চাপ কুলাতে না পেরে অনেক প্রবাসী বেছে নিচ্ছে অন্যায়ের পথ। ফলে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কুয়েতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যে কারণে প্রায় ১০ বছর ধরে বৈধ পথে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে কুয়েতে। বৈধ পথে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ থাকলেও থেমে নেই কুয়েতে বাংলাদেশিদের যাওয়া। দিন দিন অবৈধ প্রবাসীদের ভিড় বেড়েই চলছে।
কুয়েতের বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রবাসী বাংলাদেশি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, বর্তামনে কুয়েতে প্রবাসীদের যাওয়া আর কোনো এজেন্সির মাধ্যমে হচ্ছে না। এখন কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছে কুয়েতে। যার কারণে আগের তুলনায় ভিসার দাম কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি। মাহমুদ বলেন, আগে যেখানে কুয়েতে প্রবাসীরা যেতে সাত থেকে আট লাখ টাকা পাচ্ছে সেখানে বর্তমানে লাগছে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা। তিনি বলেন, এই অল্প দাম কমার কারণ শুধু মাত্র পারিবার পরিজনকে নিয়ে আসছে বলে।
মাহমুদ বলেন, কুয়েতে অনেক কোম্পানি নুতন কোনো শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারছে না। সরকারি বিভিন্ন নতুন নতুন পদক্ষেপের কারণে অবৈধ প্রবাসীরা কোম্পানিগুলোতে কাজে করতে পারছেনা। তবে কাজে না নেওয়ার জন্য কুয়েতের কোম্পানিকে নয় মাহমুদুর রহমান দায়ী করেছেন কুয়েতে বসবাসরত কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে। তিনি বলেন, কুয়েতের ভিসার দাম বৃদ্ধি, এমনকি এখানকার অনেক প্রবাসী কাজ না পেয়ে বেকার জীবন-যাপনের জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দায়ী। কারণ কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেক চাহিদা। বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজে নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে কুয়েতের বিভিন্ন কোম্পানিগুলো। কিন্তু এভাবে শ্রমিকদের কাজে নিলে বন্ধ হয়ে যাবে লামানা ভিসায় বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়া। আর এতে সবচেয়ে বিপদে পড়বে কুয়েতের অসাধু বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। যার কারণে এ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কোম্পানিকে টাকার লোভ দেখিয়ে পুরানো কর্মীদের কুয়েতের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ছাটাই করছে ।1
মাহমুদ বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা কোম্পানিগুলোকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুরোনো শ্রমিকদের ছাটাই করছে। যার বিনিময় নতুন শ্রম ভিসা দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একজন নতুন শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে গেলে কুয়েতের কোম্পানিতে চাকরি করে মাসে মাত্র পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার টাকা বেতন পায়। যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশিদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে সাত-আট লাখ টাকা। মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংঙ্কা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে কুয়েতে আসতে খরচ হয় সবোচ্চ ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা সেখানে বাংলাদেশিদের খরচ হচ্ছে কয়েকগুন। এতো বেশি টাকা খরচ করেও কুয়েতে গিয়ে ভালো মানের কোন কাজ পাচ্ছে না বাংলাদেশিরা‘।
তাই প্রবাসী এই সাংবাদিক বলেন, কুয়েতে এধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বাংলাদেশ সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আর তা না হলে কুয়েত থেকে অনেক বাংলাদেশিকেই হতাশ হয়ে দেশে ফেরত আসতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক সর্ম্পক আরো জোরদার করার মা্ধ্যমে কুয়েতে লামানা ভিসার নামে যে দৌরাত্ম চলছে হয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। একই সাথে সেদেশে বৈধ পথে নতুন শ্রমিকের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে বলেও মনে করেন মাহমুদ। এর ফলে কুয়েতের শ্রমবাজারের বাংলাদেশিদের আধিপত্য বৃদ্ধি পাবে, একই সাথে বাংলাদেশের নতুন বৈধ শ্রমবাজার তৈরি হবে।
সম্পাদনা: ফারিয়া চৈতী

সম্পর্কিত

১৩ নদীবন্দরে বসছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার

ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যে নেতিবাচক আচরণের শিকার বাংলাদেশিরা

ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে লড়ছেন ৫ নারীসহ ১৪ বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্ট

কেন ভেস্তে গেলো লর্ড কার্লাইলের দিল্লি মিশন?

ডেস্ক রিপোর্ট

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বলয় গঠন

ডেস্ক রিপোর্ট

অসহনীয় তাপমাত্রায় সৌদি আরবে তিন ঘন্টার কর্মবিরতি

ডেস্ক রিপোর্ট

১ মতামত

মতামত