দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি সত্য কথা তুলে ধরেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরি। তিনি বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে বলেছেন, সামনে নির্বাচন। কী হয় এটা ভেবে বড় দু’টি দলের কর্মীদের বুক কাঁপে। এই চরম সত্য কথা তুলে ধরে তিনি বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সবার সামনে নিয়ে এসেছেন। তবে বি চৌধুরি একটি কথা বলেননি। সেটি হচ্ছে, কেবল বড় দু’টি দল নয়, বুক কাঁপছে দেশের মানুষেরও। কেননা, নির্বাচন সামনে রেখে যদি কোনো সংঘাত হয় তাহলে তার ভুক্তভোগী হবে দেশ ও দেশের মানুষ। অতীতে এমনই হয়েছে।
দেখা গেছে, রাজনৈতিক জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে দেশের সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। প্রাণ গেছে নিরীহ মানুষের। দেশের অর্থনীতি ক্ষতি হয়েছে, বিনিয়োগ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। সামজিক- রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। তাই রাজনৈতিক সংঘাত কেবল দু’টি দলের নয়, এর ক্ষতি সবারই। তাই আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা ভেবে মানুষ উদ্বিগ্ন।
কী সেই পরিস্থিতি? সামনে নির্বাচন। কিন্তু বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী রেখে তারা নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচন হতেও দেবে না। আর কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন তারা মানবে না। এই দাবি পূরণ যে হবে না, সরকার মেনে নেবে না, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিএনপি ও সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান যদি এমন অনড় হয় তাহলে সংঘাত ছাড়া কী আছে সামনে? যদি দু’টি দলের ভেতরে সংলাপ চলতো তাহলেও দেশের মানুষ আশ্বস্ত হতো। এখন তো এরও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের মন্ত্রীরা বরাবরই সংলাপ সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছেন। এসব বাস্তবতায় নির্বাচনের সময় যতো ঘনিয়ে আসছে ততোই রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে। সদ্য শেষ হওয়া খুলনা সিটি নির্বাচনে তার আলামত দেখা গেছে। নির্বাচনী ফল মেনে নেয়নি বিএনপি।
শুধু ফল না মানাই নয়, বিএনপি সিইসি’র পদত্যাগ দাবি করেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ। তাদের এমন মনোভাব জানান দিচ্ছে সামনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত মোটেই পরিচ্ছন্ন নয়। এদিকে ঈদের পরপরই হবে গাজীপুর সিটি নির্বাচন। সেটাকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের ভেতরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন্ দিকে মোড় নেয়, তা ভেবেও অনেকে উদ্বেগ বোধ করছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিবেশ যদি শান্তিপূর্ণ রাখা না যায়, তাহলে এর প্রভাব পড়বে সবার উপরেই। ক্ষমতায় থাকা ও আসার পরিবর্তনটা হবে স্বাভাবিক নিয়মে- এমনটা যদি প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তাহলে এই সংঘাতময় রাজনীতির অবসান কখনোই সম্ভব হবে না।
 
মোস্তফা ফিরোজ: হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।