22.4 C
Dhaka
২০ অক্টোবর, শনিবার , ২০১৮ ১১:১৫:৩২ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
  • হোম
  • প্রচ্ছদ
  • কানাডার প্রাদেশিক পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম এমপি
প্রচ্ছদ প্রবাসে সফল যারা

কানাডার প্রাদেশিক পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম এমপি

ভয়েস বাংলা প্রতিবেদক: কানাডার প্রাদেশিক সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে কানাডিয়ান পার্লামেন্টে প্রথম এমপিপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। ‘ভালোর জন্য পরিবর্তন’ স্লোগানে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের জন্য নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম।

৭ জুনের এই নির্বাচনে ডলি বেগম প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির গ্যারি এলিসকে ৬ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। ডলি পেয়েছেন ১৯,৭৫১ ভোট। এই আসন ২০০৩ সাল থেকে যার দখলে ছিলো, সেই লিবারেল নেতা লরেঞ্জো বেরারদিনেত্তি পেয়েছেন ৮,২১৫ ভোট। ডলি’র বিজয়ের মধ্যে দিয়ে অন্টারিও প্রদেশের স্কারবোরো সাউথওয়েস্টে ১৫ বছর পর জয় পেয়েছে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি।

কানাডায় প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হলেও দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে তাঁদের তেমন সরব পদচারণা ছিলো না। এমন একটি প্রেক্ষাপটে কানাডার মূলধারার নির্বাচনী যুদ্ধে নেমে যথেষ্ট সহাসিকতার পরিচয় দিয়েছেন দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি ডলি বেগম। তবে ডলির রাজনৈতিক জার্ণিও খুব সুদীর্ঘ নয়। মাত্র দু’বছর ধরে ডলি এনডিপি’র সংগে যুক্ত। স্কারবোরো হেলথ কোয়ালিশনের কো-চেয়ার এবং ওয়ার্ডেন উডস কমিউনিটি সেন্টারের ভাইস-চেয়ার হিসেবে কাজ করেছেন ডলি। ডোই প্রদেশের ওয়াইড হাইড্রো পাবলিক প্রচারাভিযানের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি, যারা সফলভাবে টরন্টো হাইড্রো এবং ওয়াসগা বিতরণের ব্যক্তিগতকরণ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের সংগে যুক্ত ছিলেন ভলান্টিয়ার হিসেবে। গত ১১ মার্চ ডলি বেগমকে মনোনয়ন দেয়া হয়। গত ৮ মে ভোট চেয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন এনডিপি থেকে অন্টারিও’র প্রিমিয়ার প্রার্থী এনড্রিয়া হারওয়াথকে সংগে নিয়ে।

মেধাবী ও সাহসী ডলি বেগম নির্বাচনে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলেছেন সুচিন্তিতভাবে। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দল নির্বাচিত হলে প্রেসক্রিপশন ড্রাগ ফ্রি করে দেবেন, ডেন্টাল ফ্রি করবেন।

নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ভোটারদের উদ্দেশে ডলি বলেছেন, ‘আমি আপনাদেরই একজন, আপনাদেরই মতো জীবনযুদ্ধের প্রতি পদে হাজারো বাধা-বিপত্তি ও অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন। তাই আমি নির্বাচিত হলেই তা হবে আমাদের মতো হাজারো মানুষের নিজেদের বিজয়।’

ডলি’র জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়। এগারো বছর বয়সে, ১৯৯৯ সালে বাবা-মায়ের সংগে তিনি এবং তাঁর ছোট ভাই কানাডায় আসেন। অল্প বয়সেই ডলির পরিবার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তাঁর বাবা মারাত্মক এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অনেক বছর হাসপাতালে কাটান।

কঠিন সংগ্রামমুখর জীবনেও চলার ছন্দ হারাননি ডলি। পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পিতার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। ২০১২ সালে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেছেন। ২০১৫ সালে উন্নয়ন প্রশাসনে মাস্টার্স করেছেন টরন্টো ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে। পড়ালেখা শেষে সিটি অব টরন্টোতে কাজ করেছেন প্রায় দশ মাস। গত এপ্রিল পর্যন্ত রিচার্স অ্যানালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দ্য সোসাইটি অব এনার্জি প্রফেশনালস-এ।

নির্বাচনে ডলির জনপ্রিয় একটি স্লোগান ছিলো- ‘আমাকে নির্বাচিত করুন, আমি আপনাদের আশাহত করবো না।’ ডলির এই বিজয়ে কানাডায় বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মকে নয়া পথের দিশা দেবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশিরা।

ইতিপূর্বে কোনো বাঙালি কানাডার কোনো নির্বাচনে জিততে পারেননি। ডলি বেগম প্রথমবারের মতো প্রাদেশিক সংসদ নির্বাচনে জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। টরন্টোর বাঙালি অধ্যুষিত ডানফোর্থ এলাকায় বেরিয়েছে বিজয় মিছিল। ডলি বেগমের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে কানাডার মূল ধারার রাজনীতিতে স্বীকৃতি পেলো কানাডাস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি। মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের দ্বার উন্মুক্ত হলো। তিনি বাঙালিদের জন্য আনন্দের ও গর্বেও উপলক্ষ সৃষ্টি করলেন।

অভিনন্দন ডলি বেগম। ভয়েস বাংলা আপনার সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

 ল্যাটিন আমেরিকার কারাগারে বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা

ডেস্ক রিপোর্ট

মায়ানমারের বিচার দাবি আসিয়ানের ১৩২ এমপির

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া স্থগিত করলো মালয়েশিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত দিন