নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়াটা অনেকটাই দালালনির্ভর হয়ে পড়েছে। তাঁদের দৌরাত্ম্য যে কতটা প্রকট, তা বেরিয়ে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণায়। এতে দেখা গেছে, ভিসা কেনাবেচা আর ধাপে ধাপে দালালদের কারণে ৩ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে বিদেশগামীদের। টিআইবি’র পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর এবং মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে যাওয়া বিদেশগামী ৯০ শতাংশই দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার হচ্ছেন। আর ভিসা বা চাহিদাপত্র কিনতে শুধু ২০১৭ সালেই ৫ হাজার ২শ’ ৩৪ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। তবে বিষয়গুলো দেখভাল করার কথা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু উল্টো সেখানেও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ পেয়েছেন গবেষকেরা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, দালালদের নিবৃত করা না হলে এই ঘটনা আরো বাড়বে। ১২ জুন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর ও সংস্থার সংগে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব থেকে গতকাল ও পরশু অনেক নারী গৃহকর্মী ফেরত এসেছেন। এরা কিন্তু আমাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যায়নি। গেছে দালালের খপ্পরে পড়ে এবং দালাল কিছু কমিশন পেয়েছে, পাঠিয়ে দিয়েছে। এসময় দালালদের উদ্দেশে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কেনো দালালি করে এসব মানুষকে কষ্ট দেন? এই যারা কষ্ট পাচ্ছে তাঁরা তো আমাদের দেশেরই মানুষ, আপনারাদেরই পরিচিত লোক।’ তিনি বলেন, ‘দালাল পরিহার করতে হবে, এদের চিহ্নিত করতে হবে, এদের নিবৃত করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগামীতে এরকম কোনো তথ্য পেলে, অভিযোগ পেলে মন্ত্রণালয় থেকে সংগে সংগে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে পুলিশি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর সাড়ে ১১ থেকে ১২ লাখের মতো মানুষকে বিদেশে চাকরি দিতে সক্ষম হয়েছি। এটা শুধুমাত্র মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতার জন্যই।

এ ছাড়া অভিবাসী হতে ইচ্ছুকরা যাতে প্রতারণার শিকার না হোন সেই লক্ষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী তথ্যচিত্রটি উদ্বোধন করেন। তথ্যচিত্রটি বিশ্বকাপ খেলার সময় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দেখা যাবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে।

তথ্যচিত্রের নির্মাতা হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের বেশির ভাগ শ্রম অভিবাসী হতে ইচ্ছুক মানুষ জানে না বিদেশে কাজের জন্য গেলে কী কী ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ফলে অনেকেই না জেনে অন্ধের মতো দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশে কাজ করতে যায়। এরপর বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসে। কর্মস্থলে বেতন না পাওয়া, অধিক সময় কাজ করা, নির্যাতন, মারধরসহ নানান অত্যাচারের শিকার হতে হয় অভিবাসীদের। নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক কর্মী খালি হাতে দেশে ফিরে এসেছে। বিদেশ যাওয়ার আগে অবশ্যই বৈধ চুক্তিপত্র, ভিসার কপি, বেতন, কর্মস্থলের পরিবেশ, সর্বোপরি সুরক্ষা এগুলো সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেই বিদেশ যেতে হবে।’ এ বিষয়গুলো তথ্যচিত্রটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।’

অনুষ্ঠানে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে কী কাজ করা হবে তা বেধে দিয়ে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সংগে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে প্রবাসী কল্যাণ সচিব নমিতা হালদার ও সংস্থা প্রধানরা স্বাক্ষর করেন।