গোলাম কিবরিয়া:  রি- হিয়ারিং প্রদ্ধতিতে অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলো মালয়েশিয়ায়। আগামী ৩১ জুন এই পদ্ধতিতে বৈধ হওয়ার সুযোগ শেষ হচ্ছে। ফলে বৈধতা নিয়ে মালয়েশিয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিদেশি কর্মীরা। দেশটিতে বিদেশি কর্মীদের চাহিদা থাকা সত্বেও প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশটির সাধারণ জনগনের মধ্যে চলছে যুক্তিতর্ক। মালয়েশিয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে অবৈধ অভিবাসী কর্মী কমিয়ে আনার চেষ্ঠা করছেন তাঁরা। এতে বিপাকে পড়তে যাচ্ছে বিদেশি প্রবাসীরা।

দেশটিতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের মধ্যে বেশি আলোচিত ও সমালোচিত বাংলাদেশি কর্মীরাই। দেশটিতে অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ হওয়ার জন্য অনেকেই দালালের মাধ্যমে রি-হিয়ারিং করানো চেষ্ঠা করেছে। কিন্তু অধিকাংশই এখনো রি-হিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ হতে পারেননি। এছাড়াও পুলিশি হয়রানি, অপহরণ, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং নানানমুখী সমস্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে কিছুটা নেতিবাচক মনোভাব দেখা দিয়েছে দেশটির প্রশাসনে।

রি-হিয়ারিং পদ্ধতিতে বৈধকরণ প্রক্রিয়ার অন্যতম ধাপ হলো ইমিগ্রেশনে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়া। তারপর অন্যান্য প্রসেসিং শেষ হলে বৈধতা। কিন্তু হাইকমিশন থেকে নতুন পাসপোর্ট পাওয়াটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের। এ কারণে ৩০ জুনের মধ্যেই ইমিগ্রেশনে দাঁড়াতে পারবে কি না, এ নিয়েও দুঃচিন্তা দিন কাটছে অবৈধ বাংলাদেশিরা।

এ দিকে দেশটিতে কর্মরত অবৈধ বিদেশি কর্মীদের বৈধকরণের শেষ সময় ৩০ জুন পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। ইমিগ্রেশনে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়ার জন্য নিজ দেশের পাসপোর্ট সাথে করে নিয়ে যেতে হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে নতুন করে পাসপোর্টের আবেদন করার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেক বাংলাদেশিরা।

শরিয়তপুর জেলার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, গত ৬ মাস হয়েছে পাসপোর্টের আবেদন করেছি। হাইকমিশনে যোগাযোগ করার পরো পাসপোর্ট পাচ্ছি না। পুলিশ ভেরিফিকেশন না পাওয়ার কারণে তাঁর পাসপোর্ট ইস্যু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ বড় অংকের টাকা দাবি করেছে বলে মাহমুদুল ইসলামের অভিযোগ করেছে। যে কারণে বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করে পাসপোর্ট ও বয়স জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি বৈধতা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৈধকরণের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন প্রবাসীরা।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তাফার আলি বলেন, অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জুলাই মাস থেকে কঠোর অভিযান শুরু করবে প্রশাসন। মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় আঙুলের ছাপ নেয়ার সময় শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ৩০ তারিখে। এরপরই ‘ওপস মেগা থ্রি-জিরো’ সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হওয়া বৈধকরণ প্রকল্পে যেসব কর্মী ও নিয়োগকর্তারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাঁদের আটক করাই হবে প্রথম লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৮ মে পর্যন্ত গেল আড়াই বছরে মালয়েশিয়ায় সাড়ে সাত লাখ কর্মী এবং ৮৪ হাজার নিয়োগদাতা বৈধকরণ প্রকল্পে নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধিতদের মধ্যে এক লাখ আট হাজার ২২৩ জন অবৈধ কর্মীকে বৈধতার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এই বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিবন্ধিত হলেও ৫০ হাজার নাম জটিলতায় বৈধতা এখনো পাননি । বাকি দেড় লাখেরও বেশি লোক পরিশোধ করেও ভিসার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশটিতে যারা অবৈধ ভাবে কর্মরত রয়েছেন আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে থ্রি প্লাস ওয়ান’র আওতায় তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নিয়োগকর্তাদের।