সৈকত মাহমুদ: প্রথমবারের মতো শরিয়াহ ভিত্তিক এয়ারলাইন্স চালু হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে। আর এই এয়ারলাইন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ৩২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা কাজী শফিকুর রহমান। মাত্র ১১ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন তিনি। এরপর কাজ শুরু করেন লন্ডনের সিটি এয়ারপোর্টে ক্লিনার হিসেবে। সেখানে কাজ করতে করতেই স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের প্রথম হালাল এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠার। ৩২ বছর বয়সে সে স্বপ্নকে বাস্তব করছেন কাজী শফিকুর রহমান। গড়েছেন ‘ফিরনাস এয়ারওয়েজ’।

যুক্তরাজ্যে ‘সুন্না মাস্ক’ নামের আতর ব্রান্ডের ব্যবসায় সফলতার পর এয়ারলাইন্স ব্যবসার উদ্যোগ নেন শফিকুর। এজন্য ২০১৪ সালে ‘ফিরনাস এয়ারওয়েজ’ নামে ব্রিটেনে প্রথম শরিয়া ভিত্তিক হালাল এয়ারলাইন চালুর ঘোষণা দেন তিনি। তার এই উদ্যোগ মোটামুটি সফল। কারণ এরই মধ্যে ফিরনাস এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়েছে ১৯ সিটের ব্রিটিশ প্রস্তুতকারক বিএই জেটস্ট্রিম প্লেন।

মূলধারার মিডিয়ায় শফিকুরকে অভিহিত করা হয়েছে ‘সেলফ স্টাইলড হালাল রিচার্ড ব্রান্ডসন’ হিসেবে। কারণ তিনিই প্রথম ব্রিটেনে চালু করতে চান ‘শরিয়া কমপ্লায়েন্ট’ এয়ারলাইন। এই এয়ারলাইনের বিমানে পরিবেশন করা হবে না কোনো অ্যালকোহল, থাকবে সব ধরনের হালাল খাবার এবং কেবিন ক্রুদের পোশাক বা ড্রেসকোডে থাকবে ইসলামি ভাবধারার ছাপ। চ্যানেল ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে শফিকুর রহমান বলেন, এয়ারপোর্টে ক্লিনিংয়ের কাজ করার সময় থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিলো শরিয়াহ ভিত্তিক একটি হালাল এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠার করার। কারণ হিসেবে তিনি জানান, তিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক। কিন্তু যখন এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি পার হোন, তখন নানান ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয় তাঁর। এয়ারপোর্টগুলোতে মুসলমানদের অনেক সুবিধাই নেই। এমন পরিবেশ বিশ্বের অধিকাংশ এয়ারপোর্টে। এ অবস্থায় শরিয়া ভিত্তিক এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠা হলে এই পরিবেশের একটি আমূল পরিবর্তন হবে।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যে আছেন কাজী শফিকুর রহমান। পড়াশোনা করেছেন মাত্র জিসিএসসি লেভেল পর্যন্ত। এরপর নিজের জমানো ৬শ’ পাউন্ড দিয়ে চালু করেন পারফিউমের ব্যবসা। ‘সুন্না মাস্ক’ নামের এই পারফিউম ব্রান্ড এখন ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি ছাড়িয়ে মূলধারায়ও পরিচিত। ওয়েস্টফিল্ডের মতো বিশ্বমানের শপিং সেন্টারে রয়েছে সুন্না মাস্কের শোরুম। যার বার্ষিক আয় ছাড়িয়েছে মিলিয়ন পাউন্ডে। ২০১৭ সালে শফিকুর ভূষিত হোন ব্রিটিশ মুসলিম উদ্যোক্তা অ্যাওয়ার্ডে। ২ বোন এবং ৫ ভাই মিলে তাঁরা থাকেন ইস্ট লন্ডনে। এয়ারলাইনটির নাম তিনি রেখেছেন স্পেনের আব্বাস ইবনে ফিরনাসের নামে। তিনি প্রথম মুসলিম, যিনি বিশ্বে সফলতার সংগে হিউম্যান ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন ৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে।