19 C
Dhaka
১৩ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার , ২০১৮ ১০:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
খেলা প্রচ্ছদ মতামত

দেশে বাঘ, বিদেশে গেলেই বিড়াল

ইয়াসির ইয়ামীন: দেশে বাঘ, বিদেশে গেলেই বিড়াল। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে নিয়ে এই ধারণা চলে আসছে দশকের পর দশক। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটলো না। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইনিংস ও ১৫৯ রানে হেরে সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে ‘টিম ইন্ডিয়া’। সিরিজ জিততে বাকি তিনটি ম্যাচই পকেটে পুরতে হবে। কোনো মিরাকল না হলে সিরিজ জয়ের যে কোনো সম্ভাবনা নেই, তা বোধকরি ‘বাহুবলী’ বিরাটও অস্বীকার করবেন না। উল্টো শঙ্কা ভর করেছে, বিদেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ না হতে হয় তাঁর বাহিনীকে?

এমনিতেই টেস্ট ক্রিকেটে ঘরে-বাইরের তফাত মেটানোর কথা চলছে অনেকদিন ধরে। কারণ, বেশির ভাগ দলই নিজ দেশে জিতছে, বিদেশে গিয়ে পারছে না। দলগুলো মাত্রাতিরিক্ত ‘হোম অ্যাডভ্যান্টেজ’ নিচ্ছে বলেই এমন হচ্ছে- অভিমত বিশেষজ্ঞদের। যেমন- এই ইংল্যান্ড দল। ভারত সফরে কি নাকানি-চুবানিই না খেয়েছে। অথচ দেশের মাটিতে তারাই দুর্জেয় হয়ে উঠেছে। পক্ষান্তরে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলের।

চার বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেই ক্রিকেট আকাশে দুরন্ত উত্থান কোহলি’র। টেস্ট অধিনায়ক হয়ে ঘোষণা করেছিলেন বিরাট, বিশ্বের সর্বত্র সেরা হবে তাঁর দল। সতীর্থদের বুঝিয়েছেন- সব পরিবেশে, সব পরিস্থিতি বশ করতে না পারলে র্যাংকিংই পাওয়া যাবে, হৃদয় জেতা যাবে না।

সেই দলেরই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় দেখে কেউ কেউ বলছেন, ইংল্যান্ড যেন কোনো কাউন্টি দলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে। প্রথম ইনিংসে ১০৭ রানে অল-আউট হওয়ার পর ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট টস হারা এবং বৃষ্টিকেই দায়ী করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতার কারণ কী- এর উত্তর খুঁজতে রবি শাস্ত্রী’র লাগাতার টিম মিটিংও কোনো সুরাহা করতে পেরেছে বলে জানা যায়নি।

কী কারণে লর্ডস টেস্টটা এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো!

এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২১২ বল খেলেছে ভারত। ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে খেলেছে ৫২৯ বল। এরপর ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস টিকেছে মাত্র ২৮২ বল। সব মিলিয়ে লর্ডস টেস্টে মোট ১০২৩টি বৈধ বল-এর খেলা হয়েছে। কোহলিদের সৌজন্যে ইংল্যান্ড দেখলো তাদের মাঠে গত ১০০ বছরের মধ্যে তৃতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট। ভারত এর আগে সর্বশেষ ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিলো ২০১৪ সালে, ইংল্যান্ডের ওভাল-এ।

লর্ডস টেস্টে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা কোথায়?
কেন ইংল্যান্ডের বোলিংয়ের কাছে এই অসহায় আত্মসমর্পণ?
ইংল্যান্ড দলে কি আলোকের গতিবেগে বল করার মতো কেউ আছেন?

জিমি অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রডদের অস্ত্র তো গতি নয়, সুইং। তাতেই ভারতীয় শিবিরে যে রকম থরহরিকম্প দেখা গেলো, অবিশ্বাস্য! ঘণ্টায় ৮০-৮৫ মাইল গতিবেগের বোলারদের খেলতে গিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কখনো হাতে লাগছে, কখনো গায়ে লাগছে, কখনো তাঁরা মাঠে গড়াগড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ছেন।

অ্যান্ডারসনের বোলিং দেখে ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান ও ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া টুইট করেছেন, ‘অ্যান্ডারসন তো ঘণ্টায় ৮০ মাইল গতিতে লেগ স্পিন করছে!’ আকাশ চোপড়া কি খুব বাড়িয়ে বলেছেন?

ইংল্যান্ড লর্ডস টেস্ট ডিক্লেয়ার করেছে ২৮৯ রানে এগিয়ে থেকে। প্রথম ইনিংসে এতো অল্প রানের ‘লিড’ নিয়ে ডিক্লেয়ার করার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। কিন্তু চলতি সফরে মনে হচ্ছে, এ রকম অনেক লজ্জাই অপেক্ষা করছে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০৭ এবং ১৩০; বিদেশের মাঠে সর্বকালের নিকৃষ্টতম ব্যাটিং প্রদর্শনীর তালিকায় ঢুকে পড়লো ‘টিম ইন্ডিয়া’।

কে বলবে, প্রতিপক্ষের নাম ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়। দলটা ইংল্যান্ড। যারা মোটেও অপরাজেয় নয়।

অথচ উইকেট তো একই। যেখানে ব্রিটিশ সুইংয়ের জাদুতে অল্প রানেই গুটিয়ে গেছেন ভারতীয়রা। কী আশ্চর্য, সেখানেই সেঞ্চুরি হাঁকাচ্ছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। বোধহয় এটিই বেশি কষ্ট দিচ্ছে ভারতীয় সমর্থক এবং সাবেক ক্রিকেটারদের।

গত ৪৪ বছরের মধ্যে লর্ডসে এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। ১৯৭৪ সালে এই মাঠে ইনিংস ও ২৮৫ রানের ব্যবধানে হেরেছিলো সদ্য প্রয়াত অজিত ওয়াদেকারের ভারত। ১৯৭৪ সালে লর্ডসে ভারতীয় দল দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪২ রানে অল-আউট হয়ে টেস্টে সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ড গড়েছিলো। কোহলি ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার পর সর্বাধিক লজ্জার ব্যবধানে হার তাঁর জন্য এটিই প্রথম। অধিনায়ক হিসেবে নিজের ৩৭তম টেস্টে এসে প্রথম ‘ইনিংস ব্যবধানে হারের’ মুখ দেখলেন কোহলি।

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম দেবতা শচীন টেন্ডুলকার ১৯৯০ সালে প্রথম টেস্ট খেলেন লর্ডসে। ২০১১ সালে খেলেন সর্বশেষ টেস্ট। সব মিলিয়ে লর্ডসের ২২ গজে ৫টি টেস্ট খেলেছেন। ১০ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি নেই শচীনের। সর্বোচ্চ ৩৭ রান (২০০৭, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) তাঁর নামের পাশে লেখা। অথচ সেঞ্চুরির সুবাদে এই লর্ডসেরই অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। সেখানে কি না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান এবং সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক অনুপস্থিত।

এর ব্যাখ্যা কী?

এখানেও কি সেই ‘অ্যাওয়ে’ জুজু?

এশিয়ার বাইরে লাল বল-এ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এই হাল নতুন নয়। গত পাঁচ বছরে ভারত ৬টির মধ্যে মাত্র একটিই টেস্ট সিরিজ জিতেছে এশিয়ার বাইরে। তা-ও রীতিমতো ক্ষয়িষ্ণু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। ইংল্যান্ডের মাটিতেও ভারতের টেস্ট রেকর্ড সুখকর নয়। ৫৭টি ম্যাচের মধ্যে জিতেছে মাত্র ৬টিতে। এর মধ্যে তিনটি সিরিজ জয়। শেষ সিরিজ জয় এসেছে ২০০৭ সালে। এর আগে ১৯৭১ ও ১৯৮৬-তে সিরিজ জিতেছিলো ভারত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দু’বছরে ভারত মোট ২৫টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ১৬টিতে জয় এসেছে, ৫টি ড্র, ৪টি হার। ২৫টির মধ্যে ভারত ঘরের মাঠেই খেলেছে ১৭টি টেস্ট। পেয়েছে ১২টিতে জয়। চারটি ড্র এবং একটি হার। আরো মজার তথ্য, ২৫টির মধ্যে ২০টি টেস্টই খেলেছে এশিয়ার মাটিতে। জয় পেয়েছে ১৫ টেস্টে। এভাবে ঘরের মাটিতে টেস্ট খেলেই ভারত পৌঁছে গেছে টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে।

এবার প্রশ্ন উঠেছে, বিরাট কোহলি’র ভারত কি ইংল্যান্ড থেকে সিরিজ জিতে ফিরতে পারবে? গত এক বছরে উপমহাদেশের বাইরে কোহলি ছাড়া কেউ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। গত এক মৌসুমে উপমহাদেশের বাইরে মুরলী বিজয়, কে এল রাহুল, চেতেশ্বর পূজারা, আজিঙ্কা রাহানেদের গড় কুড়িরও কম।

নটিংহ্যামের ট্রেন্টব্রিজে এখন সবার চোখ। ভারত হারলে সিরিজের ফয়সালা হয়ে যাবে এখানেই। বিশ্বসেরা দল হওয়ার বিরাটের স্বপ্ন ধাক্কা তো খাবেই, একইসংগে তাঁর সতীর্থদের বাতিল ঘোড়া ভাবা হবে কি না, সেই প্রশ্নও উচ্চারিত হবে জোরেশোরে।

ক্রিকেট ম্যাচ সম্প্রচারের সময় ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলে দেখানো একটি বিজ্ঞাপন ইদানিং খুব জনপ্রিয় হয়েছে। যেখানে বলা হয়, ভারতের রাস্তায় আলাদা আলাদা সব মহাপুরুষ পাওয়া যায়। এর অনুকরণে ভারতীয় ব্যাটিং নিয়ে এখন বলা হচ্ছে, ম্যাচ দেখতে আসুন। আলাদা আলাদা সব মহাপুরুষ দেখতে পাবেন। দুই ওপেনার পাবেন, যাদের ডাকনাম ‘স্টাইল ভাই’। কারো মাথায় পনিটেল। কারো শরীর ভর্তি ট্যাটু। কেউ হাঁটতে হাঁটতে বোল্ড হন, কেউ স্লিপে ক্যাচিং প্র্যাকটিস দেওয়ায় সেঞ্চুরি হাঁকানোর মুখে।

লর্ডসে ‘টিম ইন্ডিয়া’র খাবারের মেন্যুতে গো মাংস, তোলপাড় …
ভারতে যখন গো-হত্যা নিয়ে রাজনৈতিক ‘ক্যাচাল’ তুঙ্গে ঠিক তখনই লর্ডসে টিম ইন্ডিয়ার মেন্যুতে দেখা গেলো গো-মাংস। সেই মেন্যু সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে বিসিসিআই। এতেই শোরগোল পড়েছে। অনেক ভক্ত-সমর্থকই এতে অসন্তুষ্ট। কেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের খাবারের মেন্যুতে ‘বিফ পাস্তা’ রাখা হলো।

কট্টর ভক্তদের কেউ এমন মন্তব্যও করেছেন- ভারতে যেখানে গো-হত্যার নামে খুনোখুনি হচ্ছে, সেখানে দেশের ক্রিকেটাররা বিদেশে গিয়ে দিব্যি গো-মাংস ভক্ষণ করছেন। ফলাফল এমন ন্যাক্কারজনক না হয়ে উপায় আছে?

ভয়েস বাংলা # ইই

সম্পর্কিত

ক্যারিয়ার সেরা র‍্যাংকিং এ মোস্তাফিজ

ডেস্ক রিপোর্ট

নেইমারের হ্যাট্ট্রিকে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকল বার্সা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডি মারিয়াকে ছাড়াই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা?

ডেস্ক রিপোর্ট

বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে চরম হয়রানি প্রবাসীদের

ডেস্ক রিপোর্ট

গ্রিসে দিশেহারা অবৈধ বাংলাদেশিরা, পাচ্ছেনা সহায়তা

ডেস্ক রিপোর্ট

চলে গেলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত