22.4 C
Dhaka
২০ অক্টোবর, শনিবার , ২০১৮ ১১:১৫:৩৯ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
প্রচ্ছদ প্রবাসে সফল যারা

বিশ্ব যার হাতের মুঠোয়

আশফাক দোয়েল: ‘আমি যেন ভ্রমণের জন্যই জন্মেছি, পৃথিবী ভ্রমণ আমার রক্তের সাথে মিশে আছে। ছোট বেলা থেকেই আমার ইচ্ছে ছিলো সারা পৃথিবী দেখার।’ বলছিলেন পৃথিবীর ৯৩টি দেশ পাড়ি দেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াল্ড ট্রাভেলর ও মোটিভেশনাল স্পিকার নাজমুন নাহার। ‘মনের ইচ্ছা শক্তি আর ভ্রমণের নেশায় বাংলাদেশের নারীরাও যে গোটা পৃথিবীকে মাড়িয়ে যেতে পারে তার প্রমাণ দিয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের এই মেয়েটি।56F8C6CC-1068-4529-891E-B1917D528E88

দূর্গম পাহাড়ের বুকে হেটে চলা, এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়ানো, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের প্রকৃতিকে বিধাতা কীভাবে সাজিয়েছেন তা দেখাই জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ বলে মনে করেন ভ্রমণ পিপাসু নাজমুন নাহার। ভয়েস বাংলার সাথে সাক্ষাতকারে তিনি তারা ইচ্ছের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই নানা ভ্রমণ বিষয়ক গল্পের বই পড়ার সময় তার ইচ্ছে হতো একদিন এই পৃথিবী নিজেই ঘুরে দেখবেন। তবে ভ্রমণের নেশাটা পরিবারিক ভাবেই পেয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। তার দাদা আলহাজ ফকীহ মৌলভী আহাম্মদ উল্লাহও একজন ভ্রমণ পিয়াসু মানুষ ছিলেন। তাই এই নেশাটা পরিবার থেকেই পাওয়া।

প্রথম দেশের বাহিরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। ২০০০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন প্রথম বিদেশ ভ্রমণ হিসেবে ইন্ডিয়ার পাঁচমারীতে ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে যোগ দেন তিনি। বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন পৃথিবীর ৮০টি দেশের গার্লস গাইড এবং স্কাউটদের সঙ্গে। তবে পৃথিবী ভ্রমনের সুযোগ পেতে বেশি দেড়ি হয়নি তার। এরপর ২০০৬ সালে সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পান তিনি। আর এতেই সুযোগ মেলে যায় বিশ্ব ভ্রমণেরও। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম জব করে টাকা জমাতে থাকেন তিনি। তিনি বলেন, কাজের মাঝে যখনই সময় হতো চলে যেতাম কোনো এক শহর ঘুরতে। কখনো একা, কখনো বন্ধুদের সঙ্গে, কখনো কনফারেন্সের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ হতো তার।

A402B7D4-ECC7-43A2-86E1-67A51FF40272কোনো দেশে গেলে সব সময় ট্রাভেলার্স ইয়ুথ হোস্টেলে থাকার চেষ্ঠা করতেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ট্রাভেলার্সদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে নিতেন সহজেই। নাজমুন নাহার বলেন, বেশির ভাগ সময়ই আমি একা ভ্রমণ করেছি এই জন্য অনেক সময় নানা সমস্যার সম্মুক্ষিন হতে হয়েছে। টানা কয়েকদিন না খেয়ে বা শুননো খাবার খেয়ে কাটাতে হয়েছে তাকে। তবে এভাবে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তার। এভাবেই এশিয়া, ওশেনিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, নর্থ আফ্রিকার ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পেরু, চিলি, প্যারাগুয়েসহ দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন তিনি। তিনি জানান, ভ্রমণের এক-দুই মাস আগে থেকেই প্লেনের টিকিট কেটে রাখেন। বাইরোডে গেলে ম্যাপ দেখে গন্তব্যের শহর ঠিক করেন। তবে কোথায় থাকবেন তার প্ল্যান করেন না। সেখানে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে নিলে তার জন্য কম পেমেন্টে সব সমাধান হয় যায়।

পৃথিবী ভ্রমণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি জানান, এই বছরের মধ্যেই ১০০ টি দেশে ভ্রমণ করবেন তিনি। তবে ভ্রমণ সেঞ্চুরি উদযাপনের দেশ হিসেবে ভুটানকে বেছে নিয়েছেন। প্রায় ২০০ বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি কালজয়ী ভ্রমণ করতে চান তিনি। যেনো ভ্রমণ ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকে তার এই ভ্রমণটি। তিনি বলেন, বাংলাদেশির জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের নারীশক্তির অভিষেক ঘটাতে চান গোটা বিশ্বে। তিনি বলেন, এই বছর বাংলাদেশের সবকটি জেলায় পা রাখতে চান। প্রতিটি জেলার উল্লেখযোগ্য ও দর্শনীয় স্থানে গিয়ে ভিডিও ধারণ করবেন। সেখানকার স্কুলগুলোতে ভিজিট করবেন। কথা বলবেন বাচ্চাদের সঙ্গে। বানাবেন ডকুমেন্টারি, যা পরবর্তী দেশগুলোতে প্রদর্শন করে নিজের দেশটিকে বিশ্ব তুলে ধরবেন।

সম্পাদনা: ফারিয়া হোসেন

সম্পর্কিত পোস্ট

ভিসা ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ!

ডেস্ক রিপোর্ট

২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস করার প্রস্তাব সংসদে পাস

zeus

ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দাতেও স্বাচ্ছন্দে অস্ট্রিয়া প্রবাসীরা

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত দিন