আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিঃশর্ত ক্ষমা পাওয়ার পর মালয়েশিয়ার কারাবন্দি নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পেয়েছেন। দেশটির সাধারণ নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদ নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পাকাতান হারাপানের বিজয়ের সপ্তাহখানেক পর মুক্তি পেলেন তিনি। বুধবার (১৬ মে) সকালে রাজকীয় ক্ষমা বোর্ডের মিটিংয়ে আনোয়ারের ক্ষমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের যে হাসপাতালে বন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে আনোয়ারকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সমকামিতার অভিযোগে দণ্ড ভোগ করা ৭০ বছর বয়সী আনোয়ার অনেক দিন ধরেই কাঁধের আঘাতের চিকিৎসা নিতে পুলিশ পাহাড়ায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় পিপলস জাস্টিস পার্টির (পিকেআর) ৭০ বছর বয়সী এ শীর্ষ নেতাকে ঘিরে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, আইনজীবী ও কারারক্ষীরা।

কারাবন্দি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কালো স্যুট, সাদা শার্টে হাস্যোজ্জ্বল চেহারা নিয়ে সমর্থকদের সামনে হাজির হন। এরপর রাজা পঞ্চম সুলতান মুহাম্মদের সংগে দেখা করতে তার রাজপ্রাসাদের দিকে রওনা হন।

নিঃশর্ত ক্ষমা পাওয়ায় পিকেআরের এ শীর্ষ নেতার রাজনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না।

রয়টার্স জানায়, রাজপ্রাসাদে আনোয়ারকে স্বাগত জানান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। ২০০৪ সালে মাহাথিরই সমকামিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আনোয়ারকে উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। ছয় বছর কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া আনোয়ারকে ২০১৫ সালে আবারও একই অভিযোগে কারাগারে পাঠান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। ২০ বছর আগে মাহাথিরকে ক্ষমতা থেকে নামাতে পাকাতান হারাপান আন্দোলন শুরু করেছিলেন আনোয়ার।

শেষ পর্যন্ত মাহাথির-আনোয়ার জোটই দেশটির রাজনীতির ইতিহাস পাল্টে দিলো। জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্টীয় তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠা নাজিবকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ারের সংগে জোট বেধে নির্বাচন করেন মাহাথির।

আনোয়ারের এই মুক্তি জোট মন্ত্রিসভার পদবন্টন নিয়ে চলা উত্তেজনা নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলেও ধারণা পর্যবেক্ষকদের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথিরের শপথের পর থেকেই মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে তার ও আনোয়ার সমর্থকদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। জোটের শীর্ষ নেতা মাহাথির হলেও আনোয়ারের অবস্থান কী হবে এ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্ক আছে। মুক্তি পাওয়া আনোয়ার ও মাহাথির মিলে এসব সংকটের সমাধান করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা সমর্থকদের