নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের পপ মিউজিকে নতুন তারকা হিসেবে এরইমধ্যে নাম লিখিয়েছে ১৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাহমি খান। আগামী ২৭ জুন নিউইয়র্কের সিটি কাউন্সিল স্পিকার কোরে জনসন ও কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল মিলার তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সিটি হলে এক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য। এর আগে কারনেজ হল, জাজ অ্যাট লিংকন সেন্টার, ইউনিয়ন হল, টাইমস স্কয়ারসহ প্রায় অর্ধশত স্থানে স্টেজ মাতিয়েছেন রাহমি খান। ওয়াইপিসি থেকে আগামী ৭ বছরের জন্য ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কণ্ঠ’ হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

রাহমি খান বলেন, ‘আমি একা একাই গান শিখেছি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা করছি সাত বছর বয়স থেকেই। পপ মিউজিক আমি পছন্দ করি এবং সেগুলোই গাওয়ার চেষ্টা করি। সে ক্ষেত্রে আমার আদর্শ মাইকেল জ্যাকসন। তিনি বলেন, মাইকেল জ্যাকসন শুধু বিনোদন দেওয়ার জন্যই গাইতেন না, তাঁর প্রতিটি গানের মধ্যে একটি বার্তা থাকতো। আমি মনে করি, গান দিয়ে জগত বদলে দেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে ওই সব শিল্পীকে আমি অনুসরণ করি, যাঁরা পরিবর্তনের জন্য গান।’

রাহমি আরো বলেন, আমি যখন স্টেজে হাজারো মানুষের সামনে গান করি, আমার চোখ থাকে কেবল বাবার দিকে। আমি দেখতে থাকি তিনি কী করছেন। অনেকটা আমার পরিচালকের মতো। বাবা খুশি হলেই কেবল আমি ভাবি, ভালো গাইতে পেরেছি।’

রাহমি খানের বাবা বলেন, ‘ওর বয়স যখন তিন বছর, তখন একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে দাওয়াত খেয়ে ফিরছিলাম। গাড়িতে তখন শিল্পী একনের একটি গান বাজছিলো। মেয়ে ওই গানটির সংগে গলা মেলাচ্ছিলো। এক জায়গায় খুব কঠিন একটি তালে, যখন পুরোটা সে দম টেনে গেয়ে উঠলো, আমি গাড়িটা থামিয়ে ওর দিকে তাকিয়েছিলাম। ওর মাকে বলেছিলাম, ওকে গান শেখাতে হবে। পরদিন আমি ডিশ নেটওয়ার্কে ফোন করে সব হিন্দি চ্যানেল সরিয়ে ফেলেছিলাম। কেননা, আমি শুধুই তাঁকে মূলধারার আমেরিকার সংগীতের সাথে পরিচিত করাতে চেয়েছিলাম। এরপর সাড়ে তিন বছর বয়সে প্রথম স্কুলে স্টেজ পারফরমেন্স দেখায় সে। সেই অনুষ্ঠানেই আমি আবিষ্কার করলাম, মেয়ের কণ্ঠে জাদু আছে।’

আগামী দিনে আমেরিকান আইডলে প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিয়েই আগাচ্ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী রাহমি খান।