27 C
Dhaka
১১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার , ২০১৮ ০৫:৩০:৩৫ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
চিফ এডিটর’স চয়েস প্রবাস বিশেষ

সৌদির ‘মোসানেদ’ জটিলতায় বিপাকে বাংলাদেশের সাড়ে পাঁচশ’ রিক্রুটিং এজেন্সি

আনজার শোয়াইব: সৌদি আরব সরকারের একটি অনলাইন সিস্টেমের নাম ‘মোসানেদ’। এই পদ্ধতি সৌদিতে ডমেস্টিক ওয়ার্কারদের ব্যবস্থাপনা করে থাকে। এ সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, মোসানেদ-এর আওতায় কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি দু’জন নারী-কর্মী রফতানি করলে একজন পুরুষ-কর্মীর কোটা পাবে। কিন্তু সৌদির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনীহা এবং অনলাইন সিস্টেমে জটিলতায় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ রিক্রুটিং এজেন্সি। এসব এজেন্সি প্রচলিত নীতিমালার আওতায় শত শত নারী কর্মী পাঠানোর পরও চাহিদা অনুযায়ী পুরুষ কর্মীর কোটা পাচ্ছে না।

মোসানেদ নিয়ে কার কী সমস্যা রয়েছে তা জানতে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছে ‘ফিমেল ওয়ার্কার রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ফোরাব। বৈঠকে রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছিলেন। বৈঠকে উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সংগে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফোরাব। উদ্ভূত সংকট নিরসনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ- বায়রা’র ভূমিকা কী হবে তা-ও খতিয়ে দেখছেন ফোরাব নেতৃবৃন্দ।

সৌদি আরব, জর্ডানসহ অন্য দেশে নারী শ্রমিক পাঠাচ্ছে এমন একটি রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, মোসানেদ-এর আওতায় নিয়ম হচ্ছে, দু’জন নারী কর্মী পাঠালে একজন পুরুষ কর্মীর কোটা তৈরি হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার অধীনে শত শত নারী কর্মী পাঠানোর পরও পুরুষ কর্মীর কোটা তৈরি হচ্ছে না। এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু জটিলতা। এই সূত্র আরো জানায়, অনেক সময় সব নিয়ম-নীতি মেন নারী-কর্মী পাঠানোর পরও তা মোসানেদ-এর আওতায় যোগ হয় না। এক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হলো- ফোরাব-এর কাউন্টার পার্ট সৌদি এজেন্সি মোসানেদ-এ কোনো অভিযোগ জানালে তারা সংগে সংগে অ্যাকশন নেয় এবং সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ফোরাব তথ্য প্রমাণসহ কাউন্টার পার্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও সৌদির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না।

 জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে সৌদি আরব, জর্ডান, ওমান, কাতার, লেবানন, হংকং, ম্যাকাওসহ বিভিন্ন দেশে ৭৩ হাজার ৬৩ জন নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ৫৩ হাজার ৬০৯ জন। জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিলো ১২ হাজার ২৪৯ জন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর নানাবিধ সমস্যায় ইতিমধ্যে অনেক নারী-কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণেই গত সেপ্টেম্বরে নারী কর্মী যাওয়ার হার হ্রাস পেয়ে ছয় হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।

অনেক জনশক্তি রফতানি বিশেষজ্ঞ বলেন, বিদেশে নারী-কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে কোনো সমস্যাই নেই। এছাড়া ফেরত আসা নারী-কর্মীর সংখ্যা এক শতাংশও নয়। তাই, মূল সমস্যা কোথায় তা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কেই খতিয়ে দেখতে হবে। যথাযথ অনুসন্ধান করতে হবে, কেন নারী কর্মীরা ফিরে আসছেন? এক্ষেত্রে মোসানেদ-এর ভূমিকা কতোটুকু এবং নারী-কর্মী পাঠানো এজেন্সিগুলোর ভূমিকা-ই বা কী?

অন্যদিকে জনশক্তি রফতানি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, শুধু নারী হলেই তাঁকে বিদেশে নারী-কর্মী হিসেবে পাঠানো উচিত নয়। কেন তাঁকে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, সেখানে কী কাজ করতে হবে- এসব বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়েই পাঠানো উচিত। সর্বোপরি, একজন নারী-কর্মী যে দেশে যাচ্ছেন, সেই দেশের ভাষা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিয়মাচার সম্পর্কে তাঁর ন্যূনতম ধারণা অবশ্যই থাকতে হবে। তাহলেই এমন অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন রোধ করা যাবে। তখনই মোসানেদ-এর আওতায় দু’জন নারী-কর্মীর বিপরীতে পুরুষ-কর্মীর চাহিদা তৈরির বিষয়টি নিয়ে জোর গলায় কথা বলা যাবে এবং তা কার্যকর করা সহজ হবে। এজন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট বিভাগ, বায়রা এবং ফোরাব-এর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত জরুরি।

#ভয়েস বাংল/ ইই

সম্পর্কিত

মেয়াদ পূর্তির আগেই শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন সিরিসেনা

ডেস্ক রিপোর্ট

ঢাকায় পৌঁছেছে জিম্বাবুয়ে দল

ডেস্ক রিপোর্ট

ইতালিতে অভিবাসন আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক রিপোর্ট

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সিদ্ধান্ত ২৬ অক্টোবর

ডেস্ক রিপোর্ট

বার্সেলোনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা ২৪ নভেম্বর

ডেস্ক রিপোর্ট

কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত