27 C
Dhaka
১১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার , ২০১৮ ০৪:২৫:৩০ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
ফিচার সাম্প্রতিক

প্রশান্তির রাজ্য মেঘালয়

চোখ জুড়ানো প্রকৃতি, আর সারি সারি বৃক্ষ, পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গেলে এমন চিত্রই চোখে পড়ে বেশী। প্রকৃতি প্রেমীরা তাঁদের লেখায় সেসবের বর্ণনা এমনভাবে করেন, যা খালি চোখে দেখার চেয়ে বন্ধ চোখে অনুভব করতেই যেন বেশী ভাল লাগে। আমি ভ্রমনে গেলে তাই শুধু প্রকৃতি দেখিনা, দেখি সেখানকার মানুষ, জীবনধারা, সংস্কৃতি। এবারের পূজার বন্ধে মেঘালয় ভ্রমণের প্রথম বাঁধা ছিল সেখানে থাকার জায়গা পাওয়া। বেসরকারি চাকুরীজীবীদের ছুটির নিশ্চয়তা মেলে দেখা যায় শেষ সময়ে এসে। আর তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করে কিছু করাও কঠিন। আর যেহেতু দুর্গাপূজার উৎসবে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। তাই হোটেল বুকিংনিশ্চিত করেই দেশ ছাড়তে চাইলাম। 

আমাদের পাঁচজনের দল অনলাইনে হোটেল খুঁজি, আর দেখতে থাকি একটাই কথা, সুপার পিক টাইম, সোল্ড আউট! ভাগ্যক্রমে শহরতলীতে একটা গেস্ট হাউস পেলাম, বুকিং ডট কমের মাধ্যমে। বুকিং দেবার পর পরই গেস্ট হাউজের ম্যানেজার মেসেজ পাঠালেন একটা ব্যাংক হিসাব নাম্বার দিয়ে। সেখানে কিছু টাকা এডভান্স পাঠালে উনি বুকিং-টি রাখবেন জানালেন। মেসেজ দেখে আমাদের আক্কেল গুরুম! বিদেশে টাকা পাঠানো অনেক ঝামেলা। সেইসাথে কর্মদিবসে কে সেই ঝামেলা পোহাবে? আমরা সমস্যা লিখে তাঁকে ফিরতি মেসেজ পাঠালাম। সে বলল, ঠিকাছে আপনারা আসুন, তবে মিস করবেন না। এখন অনেক চাহিদা আপনারা মিস করলে আমার অনেক লোকসান হয়ে যাবে। ভদ্রলোকের কথায় ভরসা পেলাম। অচেনা বাংলাদেশীদের এভাবে বিশ্বাস করায় মনেও শান্তি পেলাম।

সপ্তমীর দিনে অফিস শেষে রাতেই সবাই বিমানবন্দর রেল ষ্টেশনে সিলেটগামী উপবন ট্রেন ধরলাম। অনেকবার দেখেছি দলগত ট্যুরে শেষ সময়ে কেউ একজন মিসিং থাকে, আমরাও তেমনটাই হবে ধরে নিয়েছিলাম। তাহলে চারজন আরামে ছোট গাড়ি নিয়ে বেড়ানো যাবে, তাই সেক্ষেত্রে একজন কম হলেই ভাল মনে হচ্ছিল। তবে, সবাই আসায় নিজেদের মনোবল আরও বেড়েছিল। রাত সাড়ে দশটায় ছেড়ে ভোর সোয়া পাঁচটায় উপবন আমাদের সিলেটে নিয়ে গেল। সেখানথেকে তামাবিল বর্ডার ছোট মাইক্রোবাস (নোয়াহ) আড়াই হাজার টাকা ভাড়া চাওয়ায় আমাদের সহকর্মী ৮০০ টাকায় সিএনজি অটোরিকশা ঠিক করল। পথিমধ্যে একটা রেস্তরাঁয় আমরা প্রাতরাশ সেরে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। জাফলং তামাবিল মহাসড়ক ধরে আমরা সাড়ে আটটার আগেই বর্ডারে পৌঁছলাম। শেষের দিকে ১০-১২ কিমি রাস্তা খুবই খারাপ। সেখানে গিয়ে দেখি কয়েকটি পরিবার ব্যাগপত্র নিয়ে বসে আছে, এখনও ইমিগ্রেশান অফিস খোলেনি। বেলা নয়টার একটু পরে ছোট্ট অফিসটির দরজা খুলল। যাত্রীদের হাতে ডিপারচার ফ্রম দিলেন। সেসব পূরণ করে লাইন ধরে ধরে ইমগ্রেশান, কাস্টমস ও বিজিবির চেকপোস্ট সবার পার হতে সোয়া দশটা বেজে গেল। ম্যানুয়ালি কাজের এই সময় ক্ষেপণের বিরক্তি নিয়ে, আমরা প্রবেশ করলাম ডাহুকী বর্ডারে…
(প্রশান্তির রাজ্য মেঘালয়ের তিন পর্বের প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো)

এস এম মহিউদ্দিন
জনসংযোগ কর্মকর্তা, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্পর্কিত

এক নজরে বিপিএলে কে কোন দলে?

ডেস্ক রিপোর্ট

ইতালিতে এক ঘণ্টা সময় পরিবর্তন

ডেস্ক রিপোর্ট

৪৮ দল নিয়ে হতে পারে কাতার বিশ্বকাপ!

ডেস্ক রিপোর্ট

মাশরাফিদের জিম্বাবুয়ে মিশন শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট

জাতীয় ঈদগাহে আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট

খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ হলে রায় ঘোষণা সোমবার: অ্যাটর্নি জেনারেল

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত