মোস্তফা ফিরোজ: সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল, না স্থগিত? জয় হতে চলেছে ছাত্র আন্দোলন। কিছুক্ষণ আগে জানা গেলো প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল। এটা আপাতত: থাকবেনা। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে এসে সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন এখন জরুরি হয়ে গেছে। বিশেষ করে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা যুক্তি সঙ্গত কিনা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন যখন উঠেছে সমাধান করতে হবে। কোটা বৈষম্য দূর করার জন্য উল্টা বৈষম্য সৃষ্টির জন্য না। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সরকারও যখন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে তখন কৃষিমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে। যোগাযোমন্ত্রী যদিও বলছেন এসব তাদের ব্যক্তিগত মতামত। তারপরও প্রশ্ন, এমনটা কেন বলছেন তারা। ছাত্রদের এই আন্দোলন সরকার বিরোধী নয়। কিন্তু এটা কেউ কেউ পরাজয় হিসাবে নিচ্ছেন। সবচেয়ে ভুলের চোরাবালিতে ছাত্রলীগ। তারা সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ না করে বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিচ্ছিন্ন শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

সেই এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেখেছিলাম। আজ সকালে দেখলাম আর এক দৃশ্য। ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ এসব শ্লোগান দিয়ে গ্রীণ রোড পান্থপথ এলাকায় শত শত তরুণ শিক্ষার্থী। প্রাণের স্পন্ধন পাওয়া যাচ্ছিলো গোটা এলাকায়। এমন শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল আন্দোলন খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণ মানুষেরও সমর্থন দেখা গেলো। তারা পথচারিদের পথ করে দিচ্ছে। যানবাহনগুলো বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে। আন্দোলন ও সংগঠন করার কোন অভিজ্ঞতা নেই, তারপরও নিজেরাই নেতৃত্ব দিচ্ছে বিচক্ষতার সাথে। এমন আন্দোলন জয়যুক্ত না হয়ে পারে না।

নিজের চোখে দেখলাম তারুন্যের উচ্ছাস। বাংলাদেশের পতাকার জন্য যুদ্ধ। যার মূল কথা ছিলো বৈষম্য দূর করা। সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই জেগে উঠেছে তরুণ সমাজ। কোটা সংস্কার করে বৈষম্য দূর করার আন্দোলন। এ যেন মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনার প্রতিধ্বনি। এতোদিন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে অপরাজনীতি হয়েছে। এখন এই তরুণ সমাজই মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নেবে। এরাই বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত সৈনিক।

লেখক: বার্তা প্রধান-বাংলাভিশন