11.8 C
Dhaka
১৩ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার , ২০১৮ ০৪:৪০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
শিল্প-সাহিত্য

ভয়েস বাংলা’র জমজমাট আয়োজন

মানুষের হৃদয় ভূমিতে প্রেমের আধিপত্য একটু বেশিই। এর স্বরূপও বহুমাত্রিক। জীবনে একবারও প্রেমে পড়েননি কিংবা কাউকে ভালোবাসেননি এমন মানুষ নাকি পৃথিবীতে একজনও নেই। স্বর্গের পবিত্র রং ছুঁয়ে, বর্ণিল প্রজাপতির মতো প্রেম আসবেই। কখনো নিরবে, কখনো সরবে। প্রেম আছে বলেই এতো হানাহানি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দুঃখ-কষ্টের মাঝেও পৃথিবী টিকে আছে। প্রেম আছে বলেই আজো ফুল ফোটে, পাখি গান গায়, নিশীথে চাঁদ ওঠে, কবিরা লেখেন অনিন্দ্য সুন্দর সব কবিতা। মূলতঃ হৃদয়ানুভূতির বাঙময় রূপই হলো প্রেম।

প্রেম চুম্বকের মতো আকর্ষক, সুরের মতো গহীন, কবিতার মতো উপভোগ্য, নীলিমার মতোই প্রশান্ত। সাধারণের কাছে প্রেম মায়া, ধ্যানীর বোধে আনন্দ-চেতনা, অনুসন্ধানীর কাছে সোনার হরিণ। সব মিলিয়ে প্রেম মানে রহস্যময় এক দুর্বার আবেগের উপাখ্যান।

প্রিয় প্রবাসী, প্রেমের যেমন জন্ম আছে, তেমনি আছে মৃত্যুও। প্রেম আসে-প্রেম যায়। হারায় অতলে, জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে। কিন্তু প্রথম প্রেম-এর স্মৃতি মানুষ কখনো বিস্মৃত হয় না। প্রথম প্রেম আমৃত্যু জড়িয়ে থাকে অদৃশ্য শেকলে। আপনার প্রথম প্রেমের স্মৃতিকথা নিয়ে ভয়েস বাংলা’র বিশেষ আয়োজন “প্রথম প্রেম”।

প্রিয় প্রবাসী, আপনারা শুধু নারী-পুরুষের প্রচলিত প্রেমের স্মৃতিকথা লিখবেন, এমন নয়। প্রেমের বিস্তৃতির কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। আমরা চাই, ভয়েস বাংলা’র এই বর্ণিল আয়োজনে মানুষের সব ধরনের প্রেম-ভালোবাসার সমাবেশ ঘটুক।

যেমন-সন্তানের সংগে পিতা-মাতার, পিতা-মাতার সংগে সন্তানের রয়েছে চিরন্তন প্রেমের বন্ধন। স্বামী-স্ত্রী’র সেতুবন্ধনও ওই প্রেমেরই। ভাইয়ে-বোনে, ভাইয়ে ভাইয়ে কিংবা বোনে-বোনেও থাকে প্রেমের মধুর সম্পর্ক। প্রেমের মাধ্যমেই জোটে প্রিয় বন্ধু। স্কুলপ্রেম, শিক্ষকপ্রেম, প্রেম হয় ভ্রমণের সংগেও। শৈশবে প্রিয় পোষ্য বিড়াল, কুকুর কিংবা ময়না-টিয়ার প্রেমে পড়েন অনেকে। কেউ পড়েন পৌষের বারোয়ারি মেলায় কেনা খেলনার প্রেমে, কেউবা রঙিন ঘুড়ির। বইপ্রেমী মানুষেরও অভাব নেই। কেউ কেউ কাজের প্রেমেও জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া আছে গ্রামপ্রেম, সংগীতপ্রেম, গাড়িপ্রেম, বাড়িপ্রেম-কতো কী! সর্বোপরি মানুষ খোদা প্রেমেও বিভোর হন।

অতএব, মনের মাধুরী মিশিয়ে, সাবলীল ভাষায় লিখে ফেলুন প্রথম প্রেমের স্মৃতিকথা। নিজে লিখুন। বন্ধুকেও লিখতে বলুন।

ভয়েস বাংলা’র ‘প্রথম প্রেম’ আয়োজনে আজ ছাপা হলো রুমি’র প্রথম প্রেমের স্মৃতি ‘হৃদয়পুরের বাসিন্দা’। আপনারাও লিখুন স্মৃতির অতলে ডুবে যাওয়া প্রেমের কথা, প্রেমাস্পদের কথা। এতে কিছুটা হলেও হালকা হবে হৃদয়ভূমি।

জানালায় সেইজন

‘প্রেম স্বর্গীয়- ভালোবাসা ছাড়া জীবন অচল’। কথাগুলো চিরন্তন, অথচ অভিভাবক এবং মুরুব্বিদের চোখে প্রেম বা ভালোবাসা হলো পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধ। ছেলে বা মেয়ের পরস্পর প্রীতি মানেই ওরা বখে গেছে; যাবতীয় নিন্দা ওদের ঘাড়ে বর্তায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রেমকে নাযায়েজ ঘোষণা করে এবং মেয়ে জাতির প্রতি ঘৃণার ভ্রুকুটি হেনে পাড়ার মুরুব্বিদের বিশেষ স্নেহের পাত্র হয়েছি।
কিন্তু ঐ যে স্বপ্না! পাশাপাশি বাসা, জানালা বরাবর জানালা- পড়ার টেবিল বরাবর টেবিল। বড্ড বেশি সুন্দর। গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করে। কেমন করে যেন তাকায়। ঘুমাতে যাবার আগে চুল আঁচড়ায়, দুটো বেণি করে। জানালার গ্রিল ধরে আকাশ দেখে, আলতো হাতে লাইট অফ করে; আমি নিত্য দেখি সব; দেখা যায় বলেই দেখি। বুকের ভেতরটা কেমন উদাস উদাস লাগে। মাঝে মাঝে খুব উচ্ছৃঙ্খল হতে ইচ্ছা করে। ইচ্ছা করে, বলি- ‘এই স্বপ্না তোমাকে…’।

কিন্তু ভয় পাই। আমার অবস্থান পতনের সম্ভাব্যতায় শংকিত হই। তবু মন মানে না, তাই চিঠি লিখি। যা ঘটুক কপালে; না হয় আসুক তুফান…’। কীভাবে দিই- সেটিই এখন প্রশ্ন। সামনা সামনি! না বাবা, যদি বলে- ‘আমি এতো ভালো জানতাম, অথচ আপনি কি না…’? মুখরোচক ঘটনা ছড়াবে পাড়াময়। সবাই বলবে… ছিঃ ছিঃ! কী লজ্জা!
মনে পড়ে সিনেমা-গল্পের কাহিনী। ‘ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে…’। অথচ আমি একটু সম্মান হারানোর ভয়েই কাবু! প্রেম করতে সাহস লাগে, আমি সাহসী হই। গভীর রাতে দেয়াল টপকে স্বপ্না’র জানালায় চিঠিটা দেয়ার আগে একটু শব্দ করি। স্বপ্না’র হরিণী দৃষ্টি আমার হাতের ওপর। ব্যস! মা বলেই এক চিৎকার। বিকট শব্দে চেয়ার থেকে ভূমিতে চিৎপটাং-স্বপ্না অজ্ঞান এবং আমি ‘দে ছুট’। কিন্তু সর্বনাশ, ডক্যুমেন্ট তো রেখে এসেছি। সবাই জড়ো হয়েছে স্বপ্না’র ঘরে জানালায় সতর্ক দৃষ্টি। স্বপ্না’র চোখে মুখে পানি ছিটানো হচ্ছে। হে আল্লাহ! এখন কী হবে, যদি চিঠিটা পায়, কী কেলেংকারি! বুকে কে বা কারা যেন ড্রাম পিটাচ্ছে। এখন তো তারা নিশ্চিত, আমিই ভয়ের কারণ। স্বপ্না’র রুমে কোলাহল থেমে আসে। স্বপ্না’র ঘুম যাত্রা; বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর জন্যে নির্ঘুম রাত কাটাই আমি।
পরদিন নিশ্চিত ডাক পড়বে- আমি প্রস্তুত। সব স্বীকার করবো। যা হয় হোক। কিন্তু ডাক পড়ে না। আমি বিব্রত। ও বাড়ির লোকজন বড় বড় চোখে আমার দিকে তাকায়। আমি চোখ নিচু করি, মাথা নোয়াই, সব শাস্তি মেনে নিতে রাজি। স্বপ্না’র চিন্তা মন থেকে পুরোপুরি বাদ দিতে চেষ্টা করি। নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা- কখনও জানালা খোলা হবে না- খুলবো না। আমি কিছু দেখবো না। আমি যেমন ছিলাম তেমন থাকবো…।
অতপর একদিন স্বপ্না’র পিচ্চি ভাই আসে। সংগে একটি চিরকুট, স্বপ্না’র লেখা- ‘টিটু ভাই, জানালাটা খোলা হয় না অনেক দিন।’

মো. নূরুজ্জামান খোকন

ঢাকা

সম্পর্কিত

দেশে দেশে ঈদ-পর্ব-০৯ (সংযুক্ত আরব আমিরাত-প্রথম অংশ)

ডেস্ক রিপোর্ট

ভয়েস বাংলা’র জমজমাট আয়োজন

ডেস্ক রিপোর্ট

দেশে দেশে ঈদ-পর্ব-০৩

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মুসলিম সৈনিকদের স্মরণে নির্মিত প্যারিস মসজিদ

ডেস্ক রিপোর্ট

ভয়েস বাংলা’র জমজমাট আয়োজন

ডেস্ক রিপোর্ট

দেশে দেশে ঈদ-পর্ব-০৯ (সংযুক্ত আরব আমিরাত- দ্বিতীয় ও শেষ অংশ)

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত