27.2 C
Dhaka
১২ ডিসেম্বর, বুধবার , ২০১৮ ০২:৫০:৫৯ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
শিল্প-সাহিত্য

ভয়েস বাংলা’র জমজমাট আয়োজন

মানুষের হৃদয় ভূমিতে প্রেমের আধিপত্য একটু বেশিই। এর স্বরূপও বহুমাত্রিক। জীবনে একবারও প্রেমে পড়েননি কিংবা কাউকে ভালোবাসেননি এমন মানুষ নাকি পৃথিবীতে একজনও নেই। স্বর্গের পবিত্র রং ছুঁয়ে, বর্ণিল প্রজাপতির মতো প্রেম আসবেই। কখনো নিরবে, কখনো সরবে। প্রেম আছে বলেই এতো হানাহানি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দুঃখ-কষ্টের মাঝেও পৃথিবী টিকে আছে। প্রেম আছে বলেই আজো ফুল ফোটে, পাখি গান গায়, নিশীথে চাঁদ ওঠে, কবিরা লেখেন অনিন্দ্য সুন্দর সব কবিতা। মূলতঃ হৃদয়ানুভূতির বাঙময় রূপই হলো প্রেম।

প্রেম চুম্বকের মতো আকর্ষক, সুরের মতো গহীন, কবিতার মতো উপভোগ্য, নীলিমার মতোই প্রশান্ত। সাধারণের কাছে প্রেম মায়া, ধ্যানীর বোধে আনন্দ-চেতনা, অনুসন্ধানীর কাছে সোনার হরিণ। সব মিলিয়ে প্রেম মানে রহস্যময় এক দুর্বার আবেগের উপাখ্যান।

প্রিয় প্রবাসী, প্রেমের যেমন জন্ম আছে, তেমনি আছে মৃত্যুও। প্রেম আসে-প্রেম যায়। হারায় অতলে, জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে। কিন্তু প্রথম প্রেম-এর স্মৃতি মানুষ কখনো বিস্মৃত হয় না। প্রথম প্রেম আমৃত্যু জড়িয়ে থাকে অদৃশ্য শেকলে। আপনার প্রথম প্রেমের স্মৃতিকথা নিয়ে ভয়েস বাংলা’র বিশেষ আয়োজন “প্রথম প্রেম”।

প্রিয় প্রবাসী, আপনারা শুধু নারী-পুরুষের প্রচলিত প্রেমের স্মৃতিকথা লিখবেন, এমন নয়। প্রেমের বিস্তৃতির কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। আমরা চাই, ভয়েস বাংলা’র এই বর্ণিল আয়োজনে মানুষের সব ধরনের প্রেম-ভালোবাসার সমাবেশ ঘটুক।

যেমন-সন্তানের সংগে পিতা-মাতার, পিতা-মাতার সংগে সন্তানের রয়েছে চিরন্তন প্রেমের বন্ধন। স্বামী-স্ত্রী’র সেতুবন্ধনও ওই প্রেমেরই। ভাইয়ে-বোনে, ভাইয়ে ভাইয়ে কিংবা বোনে-বোনেও থাকে প্রেমের মধুর সম্পর্ক। প্রেমের মাধ্যমেই জোটে প্রিয় বন্ধু। স্কুলপ্রেম, শিক্ষকপ্রেম, প্রেম হয় ভ্রমণের সংগেও। শৈশবে প্রিয় পোষ্য বিড়াল, কুকুর কিংবা ময়না-টিয়ার প্রেমে পড়েন অনেকে। কেউ পড়েন পৌষের বারোয়ারি মেলায় কেনা খেলনার প্রেমে, কেউবা রঙিন ঘুড়ির। বইপ্রেমী মানুষেরও অভাব নেই। কেউ কেউ কাজের প্রেমেও জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া আছে গ্রামপ্রেম, সংগীতপ্রেম, গাড়িপ্রেম, বাড়িপ্রেম-কতো কী! সর্বোপরি মানুষ খোদা প্রেমেও বিভোর হন।

অতএব, মনের মাধুরী মিশিয়ে, সাবলীল ভাষায় লিখে ফেলুন প্রথম প্রেমের স্মৃতিকথা। নিজে লিখুন। বন্ধুকেও লিখতে বলুন।

ভয়েস বাংলা’র ‘প্রথম প্রেম’ আয়োজনে আজ ছাপা হলো রুমি’র প্রথম প্রেমের স্মৃতি ‘হৃদয়পুরের বাসিন্দা’। আপনারাও লিখুন স্মৃতির অতলে ডুবে যাওয়া প্রেমের কথা, প্রেমাস্পদের কথা। এতে কিছুটা হলেও হালকা হবে হৃদয়ভূমি।

বিনিসুতোর মালা…

ছোটবেলার অনেক স্মৃতি সময়ের পালাবদলে অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগের মতো মন আন্দোলিত হয় না তেমন। মা-ই আমার সব ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। দেশের জন্যে, দেশের মানুষের জন্যে, ভাষার জন্যে, এমনকী নিজের জন্যে যে প্রেম-এর সব কিছুর মূলে রয়েছে মায়ের জন্যে প্রেম। মা-ই আমার ভালোবাসা গ্রহণ-বহনের চালিকাশক্তি। যদি সম্ভব হতো পৃথিবীর সর্বোচ্চ সুখ মায়ের জন্যে নিশ্চিত করতাম।

আমার বাসার দেয়াল ঘেঁষা রুমে বিছানার সংগে লাগোয়া কাঠের কালো জানালা বেয়ে দেয়ালে ওঠা যায়, ছোঁয়া যায় টিনের চাল। একটা সময় ছিলো, যখন এ জানালায় বসে কিংবা দেয়ালে দাঁড়িয়ে টিনের চালে পাতায়-লতায় রান্নার আসর সাজাতাম। রথের মেলা থেকে কেনা হাঁড়ি-পাতিলগুলো এখনও কাছে ডাকে। এ জানালায় বসে রং-বেরঙের সুতায় কতো না স্বপ্নের জাল বুনেছি। কবে, কখন এই জানালার প্রেমের বন্ধনে জড়িয়েছি, মনে নেই।

যখন স্কুলে পড়তাম, বেশ খানিকটা পথ হেঁটে গিয়ে রিকশা করতে হতো। একবার পরীক্ষার সময়, প্রচণ্ড বৃষ্টিতে রিকশার জন্যে হাঁটু পানি ভেঙ্গে হাঁটতে শুরু করি, মা ও আমি। পাশের বাড়ির অহংকারী মেয়েটিও তার মাসহ আমাদের সংগী হয়। এই প্রথম দু’একটি কথা হয় ওর সংগে। কথাগুলো মনে নেই, তবে এটা সত্যি, সেদিন থেকে মেয়েটিকে অহংকারী মনে হয়নি। হয়তো সেদিনই প্রথম ভালোবাসার বীজ চারা মেলেছিলো মনের মধ্যে, যা আজ বৃক্ষসম। কতো অবিশ্বাস, কঠোরতা, ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে তাকে আজও বহন করে চলেছি।

হাইস্কুলে পড়ার সময় এক ক্লাসমেট প্রায়ই তার ভাইয়ের লেখা চিঠি নিয়ে আসতো আমার জন্যে এবং জোর করেই পড়াতো চিঠিগুলো। ওর ভাই কলেজে পড়তো, মাঝে মাঝে স্কুলের বাইরে দেখা যেতো তাকে। চিঠিগুলো পড়তে চাইতাম না। কিন্তু একবার পড়েই মুখস্ত করে ফেলতাম বা হয়ে যেতো। ছেলেটির হাতের লেখার চেয়েও ভালো ছিলো লেখার হাত, যা আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করতো। কিছুদিন পর বাবার বদলির কারণে ওরা চলে যায়। ছেলেটির কোনো চিঠিরই উত্তর দেয়া হয়নি। এমনকী ওর চেহারাও মনে পড়ে না, তবে চিঠিগুলো ফেরত দেয়ায় এখন প্রায়ই আফসোস হয়। মনে হয়, অনেক কিছুই বলার ছিলো তাকে। প্রথম প্রেম নিয়ে লিখতে বসেছি, কতো স্মৃতি ভেসে উঠছে। জানি না, প্রেমে প্রথম, দ্বিতীয় বা শেষ আছে কি না। তবে আমি কোনোটি অস্বীকার করতে পারি না। সবার প্রেমেই আমি ঋণী। এই জীবনে সবার সংগে প্রেমের বিনিসুতোর যে মালা গেঁথেছি-ছিঁড়ে যাওয়ার উপায় নেই। প্রেম কি তবে অবিনশ্বর, অসীম, অনন্ত, নাকি কেবলই দীর্ঘশ্বাস?

অনিন্দিতা চক্রবর্তী

ঢাকা

সম্পর্কিত

দেশে দেশে ঈদ-পর্ব-০৯ (সংযুক্ত আরব আমিরাত- দ্বিতীয় ও শেষ অংশ)

ডেস্ক রিপোর্ট

দেশে দেশে ঈদ-পর্ব-০৬

ডেস্ক রিপোর্ট

ভয়েস বাংলা’র জমজমাট আয়োজন

ডেস্ক রিপোর্ট

ভয়েস বাংলা’র জমজমাট আয়োজন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মুসলিম সৈনিকদের স্মরণে নির্মিত প্যারিস মসজিদ

ডেস্ক রিপোর্ট

স্মৃতির দহন

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত