22 C
Dhaka
১৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার , ২০১৮ ১২:২৯:১২ পূর্বাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
স্বাস্থ্য

জরায়ু ক্যান্সার রোধে যেসব বিষয় জানা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সার্ভিক্যাল ক্যান্সার বা জরায়ুর ক্যান্সার সম্পর্কে কম-বেশি আমরা সবাই শুনেছি। গবেষণা বলছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত বাঙ্গালি নারীদের এক-চতুর্থাংশ জরায়ু ক্যান্সারে ভুগছেন। আমাদের দেশে নারীরা সাধারণত এসব সমস্যা চিকিৎসককে খুলে বলতে লজ্জা পান। এই কারণে ক্যান্সার ধীরে ধীরে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত লাসিকা ও রক্তের মাধ্যমে তা লিভার, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ সময়ই জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তরা এমন সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তখন কিছুই করার থাকে না। ফলে জীবনঘাতী হয়ে ওঠে এই ক্যান্সার।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা এজেন্সি সাম্প্রতিক এক জরিপে বলেছে, বাংলাদেশে বছরে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি নারী জরায়ু মুখের ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন। প্রতি বছর নতুন করে ১২ হাজারের মতো নারীর শরীরে এই ক্যান্সার শনাক্ত হচ্ছে। অথচ অন্য ধরনের ক্যান্সারের তুলনায় জরায়ু মুখের ক্যান্সার খুব সহজেই নির্ণয় করা যায়। এমনকি হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব। এছাড়া দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল, এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এটি নির্ণয় করা যায় এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ধাপটি বিনামূল্যেই পাওয়া যায়। তবু বাংলাদেশে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের প্রকোপ এতো বেশি কেন?
এ বিষয়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের গাইনি অন্কোলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. আফরোজা খানম জানিয়েছেন, জরায়ু মুখের ক্যান্সারের মূল সমস্যা হলো- এটি শেষ পর্যায়ে উপনীত হলেই কেবল ব্যথা অনুভূত হয়। সাধারণত এর লক্ষণগুলোকে অনেকেই মাসিকের মেয়েলি সমস্যা বলে ভুল করেন। এই রোগের প্রথম পর্যায়ে ব্যথা থাকেই না। একেবারে শেষ পর্যায়ে বা রোগটি শরীরে ছড়িয়ে পড়লেই কেবল ব্যাথা করে। তখন এটি হাড়ের মধ্যে সংক্রমিত হয় বলেই তীব্র ব্যথা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কোনো ব্যথা না হওয়ায় আমাদের দেশের নারীরা চিকিৎসকের কাছে আসেন না। দেখা যায়, দুর্গন্ধযুক্ত ¯্রাব যাচ্ছে কিন্তু লজ্জায় কাউকে জানাচ্ছেন না। স্বামীর সংগে মেলামেশার সময় রক্ত ঝরলেও তা নিয়ে আলাপ করছেন না।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. জেবুন্নেসা বেগম জরায়ু মুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং সম্পর্কে প্রচারে সহায়তা করেন। জরায়ু মুখের ক্যান্সার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যে দুই প্রকার প্যাপিলোমা ভাইরাস দিয়ে এই ক্যান্সার হয়, সহবাসের মাধ্যমেই সেটি স্প্রেড হয়। ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার সংগে সংগেই ক্যান্সার হয় না। তবে অন্য ক্যান্সারের জীবাণু ঢোকার পর আমরা খুব একটা সময় পাই না। সাধারণত জরায়ু মুখের ক্যান্সারে ১৫ থেকে ২০ বছরও সময় লাগে জীবাণু প্রবেশের পর ক্যান্সারটি হতে। এর মানে হলো, এটি নির্ণয়ে এতোটা সময় পাওয়া যায়। নিয়মিত স্ক্রিনিং করালে ইনিশিয়ালি আমরা জার্মটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারি।’

ডা. জেবুন্নেসা বলেন, ক্যান্সার শব্দটি শুনলেই বেশিরভাগ মানুষের মাথায় ভীতিকর অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু এর সংগে জরায়ু মুখ শব্দটি যুক্ত হলে অনেকেই এ নিয়ে কথা বলতে সংকোচবোধ করেন। এর সংগে যৌন সম্পর্কের বিষয়টি যুক্ত থাকায় অনেকের মধ্যে এক ধরনের আড়ষ্টতা কাজ করে। এমনকি চিকিৎসকরাও এর বাইরে নন। অথচ জরায়ু মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রাথমিক ধাপটি অত্যন্ত সহজ। সময়ও লাগে মাত্র এক মিনিট।

জরায়ুর ক্যান্সারের উপসর্গ:

১) দুই মাসিকের অন্তর্বর্তী সময়ে হালকা রক্তপাত হয়,
২) মাসিকের সময় রক্তপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদী হয়,
৩) সহবাসের পর রক্তপাত হয়,
৪) সহবাসের পর ব্যথা অনুভূত হয়,
৫) মাসিক বন্ধ হবার পরও মাসিকের রাস্তায় রক্তপাত হয়।

সহবাসের সময় কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে জরায়ুর ক্যান্সারের জন্য দায়ী HPV-এর অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া প্যাপিলোমা ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাক্সিন বা টিকা পাওয়া যায়। এটা পুরোপুরি নিরাপদ এবং শতভাগ কার্যকর। এই ভ্যাক্সিন ১১ বছর বয়স থেকে শুরু করে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে এই ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম শুরু হলেও এখনো এর তেমন ব্যাপ্তি ঘটেনি।

রোগ নির্ণয়:
জরায়ুর ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিনিং টেস্ট রয়েছে। যেমন Pap smear ও VIA টেস্ট। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার VIA পরীক্ষাকেই সর্বসাধারণের জন্যscreening test হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এর কারণ, VIA test অতি সহজেই ও স্বল্পমূল্যে করা সম্ভব। সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরীক্ষাটি বিনামূল্যে করানোর সুযোগ রয়েছে।

চিকিৎসা:
সারভিক্যাল ক্যান্সার চিকিৎসার কিছু রকমফের রয়েছে। যাদের এখনো ক্যান্সার হয়নি অর্থাৎ pre-cancer stage-এ আছেন, তাঁদের চিকিৎসা হাসপাতালের বহিঃবিভাগে লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমে করা হয়। এতে নিরাময়ের হার ৮০-৯৬ শতাংশ। যাদের শরীওে এই ক্যান্সার পুরোপুরি বাসা বেঁধেছে তাঁদের জন্য ক্যান্সারের ধাপ অনুযায়ী সার্জারি, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির মতো বিভিন্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও ৮০ শতাংশ ক্যান্সার রোগী এমন সময় চিকিৎসকের কাছে আসেন যখন অপারেশন করে সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। অথচ সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই একে সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

# ভয়েস বাংলা/ এটি

সম্পর্কিত পোস্ট

বাংলাদেশে গড় আয়ু বাড়ছে যে কারণে

Taher

যেসব ফল খেলে আপনার ওজন কমবে

Taher

মতামত দিন