21.7 C
Dhaka
১১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার , ২০১৮ ০৮:০০:৩৬ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
হাইলাইটস

৭ নবেম্বর ১৯৭৫: কী ঘটেছিলো?

 ১৯৭৫ সালের নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহ- স্বাধীনতার মাত্র চার বছর পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশটিতে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হয় তারই একটি পরিণতি ছিলো এই সাত দিনের রক্তাক্ত ঘটনাপ্রবাহ।

অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের সূচনা:

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের পর এর সংগে যুক্ত মেজরদের নিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতাগ্রহণ করেন। তবে খন্দকার মোশতাক সামনে থাকলেও হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত সেনা কর্মকর্তারা ছিলেন প্রবল ক্ষমতাশালী।

খন্দকার মোশতাক আহমেদ

সেই সময় বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করা হলেও শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সংগে জড়িত কয়েকজন মেজর বঙ্গভবন থেকে সেনাবাহিনীর অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এর তিন মাস পরই নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান হতে যাচ্ছিলো তার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিলো ক্ষমতার এই রক্তাক্ত পালাবদলের মধ্য দিয়ে।

অভ্যুত্থানের কারণ নিয়ে বেশ কিছু ব্যাখ্যা থাকলেও সেনাবাহিনীর তৎকালীন অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর থেকেই সেনাবাহিনীতে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছিলো, তার ফলেই সংঘটিত হয়েছে নবেম্বরের অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান। জুনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন সেনাবাহিনীর মধ্যে অনেকেই গ্রহণ করতে পারেননি। এর বাইরে আরেকটি দ্বন্দ্বও ছিলো, যার সূচনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই।

সেনাবাহিনীর ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্ব:

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিনজন অফিসার ব্যাপক পরিচিতি পান। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘যুদ্ধের পর থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে এই তিনজন অফিসারের তিনটি প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছিলো।’ ব্রিগেডিয়ার হোসেন তখন ঢাকায় ৪৬ ব্রিগেডের মেজর পদমর্যাদার স্টাফ অফিসার ছিলেন। যে তিনজন সেনা কর্মকর্তার কথা তিনি বলছেন, তাঁরা হলেন জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশারফ এবং কে এম শফিউল্লাহ।

জিয়াউর রহমান

‘এই দ্বন্দ্ব আগেও ছিলো, কিন্তু তা প্রকট হয় ১৫ আগস্টের পরে। জেনারেল শফিউল্লাহ মোটামুটি বের হয়ে গেলেন, জেনারেল জিয়া ইন হলেন। আবার জেনারেল জিয়া ইন হওয়ায় তাঁর এবং ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফের মধ্য দ্বন্দ্ব আরো বাড়লো’।

১৫ আগস্ট হত্যাকা-ের দিন দশেক পর সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ-কে। বিবিসি’র সংগে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, এরপর থেকে তিনি দৃশ্যপটে ছিলেন না এবং অনেকটা গৃহবন্দী হিসেবেই সেনাপ্রধানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

নবেম্বরের ঘটনাপ্রবাহকে খালেদ মোশারফ এবং জিয়াউর রহমানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফলাফল হিসেবে দেখছেন কে এম শফিউল্লাহ- ‘ভবিষ্যত অন্ধকার মনে করে খালেদ মোশারফ জিয়াউর রহমানকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো। তাকে হাউস অ্যারেস্টও করেছিলো এবং নিজেই চীফ অব স্টাফের র্যাংক পরেছিলো। শেষ পর্যন্ত সে থাকতে পারেনি এবং সেই ঘটনাটাই লিংগার করে ৭ তারিখে জিয়াউর রহমান কর্ণেল তাহেরকে সংগে নিয়ে খালেদ মোশারফের গ্রুপকে সরিয়ে দেয়।’ তিনি বলছিলেন, ‘দৃশ্যপটে না থাকলেও সেনাবাহিনীর মধ্যে যে উত্তেজনা রয়েছে তা তিনি টের পাচ্ছিলেন এবং খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের পটভূমিও তৈরি হয় সেখান থেকেই।’

অভ্যুত্থান এবং ৩ নবেম্বর জেল হত্যাকান্ড:

নবেম্বরের ৩ তারিখ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দেওয়ার মতো দু’টি ঘটনা ঘটে- একটি অভ্যুত্থান এবং ঢাকা কারাগারে হত্যাকা-। মধ্যরাত পার হবার পরই খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভবন ঘেরাও করার জন্য যায় একটি ইনফ্যান্ট্রি ইউনিট, রেডিও স্টেশন দখল করে নেয় আরেকটি সেনাদল।

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলছিলেন, ‘বঙ্গভবন ঘিরে তখন এতো বেশি সেনা সমাবেশ হয়েছিলো যে, ভেতরে থাকা মেজর ডালিম এবং মেজর নূরসহ সেনা কর্মকর্তারা পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এরই মধ্যে আকাশে যুদ্ধবিমানও উড়তে দেখা যায়। বঙ্গভবনের ওপর দিয়ে যখন দু’তিনটি ফাইটার জেট উড়ে গেলো, তখন তারা বুঝলো যে, হাতে সময় নেই, আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

কর্ণেল তাহের

সেদিন সকাল থেকেই সমঝোতার চেষ্টা চলছিলো। মেজর ডালিম এবং মেজর নূর বেশ কয়েকবার ক্যান্টনমেন্টে এসে খালেদ মোশারফের সংগে দেখা করে। দিনভর নানান দেন-দরবারের পর সন্ধ্যায় ঠিক হলো তাদেরকে দেশ থেকে চলে যেতে দেওয়া হবে।

সেদিন রাতেই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সংগে জড়িত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে একটি বিমানে করে থাইল্যান্ডে চলে যেতে দেওয়া হয়। এদিকে সেই রাতেই কেন্দ্রীয় কারাগারে চলে হত্যাকা-। কয়েকজন সেনা-সদস্যের হাতে খুন হন ১৯৭১ সালের প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী এম. মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন জেলার আমিনুর রহমান বিবিসি’র সংগে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘রাত একটা থেকে দেড়টার দিকে একটি পিকআপ-এ করে কিছু সেনাসদস্য জেলগেটে উপস্থিত হন। এ সময় আইজি প্রিজনের ফোন পেয়ে তিনিও সেখানে যান। এর কিছুক্ষণ পর আইজি-প্রিজনের কার্যালয়ের টেলিফোনটি বেজে ওঠে। টেলিফোন ধরলেই বললো যে, প্রেসিডেন্ট কথা বলবে আইজি সাহেবের সংগে। কথা শেষ করার পরই আইজি সাহেব বললেন, প্রেসিডেন্ট ফোন করেছিলো। বললো যে, আর্মি অফিসাররা যা চায় সেটা তোমরা করো।’

এরপর কারা মহাপরিদর্শক আমিনুর রহমানের হাতে চারজনের নাম লেখা একটি চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে বলেন, এদের এক জায়গায় করো।

‘সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন সাহেব ছিলেন এক রুমে, অন্য দু’জন ছিলেন আরেক রুমে। আমি ভাবলাম, কথাবার্তা বলবে, তো পরিচয় করিয়ে দিই। মনসুর আলী সাহেব ছিলেন সর্বদক্ষিণে। তাঁকে পরিচয় করানোর জন্য মাত্র ম.. বলার সংগে সংগেই গুলি করে দিলো। এরপর তারা খোলা গেট দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলো।’

সাখাওয়াত হোসেন বলছিলেন, ‘ঐ জেলহত্যার ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানাজানি হয়নি। ঘটনাটি সেনা অফিসারদের কাছে পৌঁছে ৪ নবেম্বর সকালের দিকে।

কে এম শফিউল্লাহ

সক্রিয় হয়ে ওঠে জাসদের গণবাহিনী:

৩ নবেম্বরের পরের কয়েকটি দিন কার্যকর দেখা যায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদের গণবাহিনীকে। কর্ণেল তাহেরের নেতৃত্বাধীন গণবাহিনী পরের অভ্যুত্থানে মূল ভূমিকা পালন করে। কর্ণেল তাহেরের ভাই এবং গণবাহিনীর তৎকালীন ঢাকা মহানগর প্রধান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কাছ থেকেই খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের খবরটি জানতে পারেন কর্ণেল তাহের।’ তিনি বলেন, ‘৩ নবেম্বর ভোর-রাতের দিকে জিয়াউর রহমান ফোন করেন কর্ণেল তাহেরকে।’ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘তাহের, ওরা আমাকে বন্দী করেছে। আমার জীবন বিপন্ন।’ যদিও জিয়াউর রহমানের মূল টেলিফোন লাইনটি কেটে দেওয়া হয়েছিলো, তবে একটি প্যারালাল লাইন সচল থাকায় তিনি টেলিফোন করতে পেরেছিলেন বলে জানান অধ্যাপক হোসেন।

কর্ণেল তাহের সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন ১৯৭২ সালে। এরপর তিনি সরাসরি জাসদের রাজনীতির সংগে যুক্ত হন।এরই মধ্যে গঠিত হয় সেনা-সদস্যদের নিয়ে সৈনিক সংস্থা এবং গণবাহিনী, যদিও বিষয়গুলো তখনো প্রকাশ্য ছিলো না।

খালেদ মোশাররফ

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নবেম্বরের ৩ তারিখেই কর্ণেল তাহের নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন এবং এরপর থেকেই সৈনিক সংস্থার সদস্যরাসহ সেনা-সদস্যরা তাঁর সংগে দেখা করতে শুরু করেন। খালেদ মোশারফ ক্ষমতা হাতে নিলেও কোনো সরকার গঠন করতে পারেননি। এর মধ্যেই অনেকটা অগোচরে ঘটে যায় জেল হত্যাকা-। এসব মিলিয়ে অনেকটা ‘‘সরকারহীন’’ অবস্থার মধ্যে ছিলো কয়েকটি দিন। এর মধ্যে জাসদ, গণবাহিনী এবং তাহের সৈনিকদের সংগে ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যান।’

নবেম্বরের ৫ এবং ৬ তারিখে গণবাহিনী আরো সক্রিয় এবং সংগঠিত হতে শুরু করে। কর্ণেল তাহের-এর নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা চলতে থাকে। সাখাওয়াত হোসেন বলছেন, ‘গণবাহিনী যে একটা কিছু করতে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ৬ তারিখ বিকালে, যখন ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে গণবাহিনীর নামে একটি লিফলেট ছড়ানো শুরু হয়।’ ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন জানান, লিফলেটের একটি কপি তিনিও দেখেছিলেন।

লিফলেটে খালেদ মোশারফ, শাফায়াত জামিল এবং কর্ণেল হুদাকে ‘ভারতীয় চর’ বলে প্রচার করা হয়। এরই মধ্যে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে প্রেসিডেন্ট হিসেব শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীতে ঠিক কী হচ্ছে তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে যায়। একটা ক্যু-তে যে হোমওয়ার্ক হয়, সেটা ছিলো না। যে যার মতো করে চলছিলো। এই বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে ৬ তারিখ রাতে এই লিফলেট জওয়ানদের মধ্যে ছড়ানো হলে সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, গণবাহিনী নামে একটি ফোর্স ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে কাজ করছে।

এদিকে গণবাহিনীর বিদ্রোহের মূল পরিকল্পনা হয় ৬ তারিখ সন্ধ্যায়।

‘বিশাল একটি হলরুমের মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রায় ৬০-৭০ জন সদস্য ছিলেন। সেখানে গণবাহিনীর নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে কর্ণেল তাহের, এর পরের অবস্থানেই ছিলো হাসানুল হক ইনু এবং আমি নিজেও ছিলাম। সেখানেই প্রত্যেকের কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়’- বলেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।’ তিনি বলেন, ‘দলীয়ভাবে জাসদের সিদ্ধান্ত ছিলো প্রস্তুতি নিয়ে ৯ নবেম্বর অভ্যুত্থান হবে। কিন্তু ক্যান্টনমেন্টের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সেই রাতেই বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

কর্ণেল এ. টি. এম. হায়দার

৭ নবেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থান:

৭ নবেম্বর দিবাগত রাতেই শুরু হয় পাল্টা অভ্যুত্থান। যার পুরোভাগে ছিলো সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। কে এম শফিউল্লাহ বলেন, ‘সৈনিকদের মধ্যে স্লোগান উঠছিলো- ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, জেসিও ছাড়া র্যাংক নাই।’

‘সিপাহীদের মধ্যে একটা হতাশা সৃষ্টি হয়েছিলো। তারা ভাবছিলো অফিসাররা তাদের ব্যবহার করে উচ্চপদে উঠছে কিন্তু তাদের কথা কেউ চিন্তা করে না।’ সেই রাতেই মুক্ত করা হয় জিয়াউর রহমানকে। ৭ তারিখ রাতে ক্যান্টনমেন্টে গোলাগুলি শুরু হয়। কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বিদ্রোহীরা।

‘জিয়াউর রহমানকে গণবাহিনী বের করতে পারেনি, তাকে রাতেরবেলা বের করে ফোর বেঙ্গল আর টু ফিল্ড রেজিমেন্ট।’

সাখাওয়াত হোসেন বলছিলেন, ‘পরদিন সকালেই তিনি গণবাহিনীর সদস্য এবং কিছু সেনাসদস্যসহ সেনানিবাসে কর্ণেল তাহেরকে দেখতে পান। এরপর জিয়াউর রহমানের সংগে কথা বলার সময় একপর্যায়ে দু’জনের মধ্যে কিছু উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়।’

‘তাহের চাচ্ছিলো জিয়াউর রহমান রেডিওতে গিয়ে গণবাহিনীর ১৩ দফা ঘোষণা করবেন এবং বলবেন যে, তিনি এসব দাবি মেনে নিয়েছেন। এরপর সিপাহী-জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সেই দাবি মেনে নেয়ার কথা জানাবেন।’

‘কিন্তু তিনি যাননি। তিনি এর আগেই তাঁর ভাষণ রেকর্ড করে রেডিওতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এখানেই তাহের এবং জিয়ার বিচ্ছেদ হয়।’

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলছেন, ৭ নবেম্বরের অভ্যুত্থানের সময় জওয়ানদের সংগে অনেককে অস্ত্রসহ বেসামরিক পোশাকেও অংশ নিতে দেখা গিয়েছিলো। তবে ঐ অভ্যুত্থানে গণবাহিনী তাদের বেসামরিক সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি, বলেছেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘জাসদ যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলো তা ব্যর্থ হবার এটিও একটি কারণ।’

কথা ছিলো সৈনিকরা জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এলিফ্যান্ট রোডে নিয়ে আসবে। সেখানেই একটি বাসায় কর্ণেল তাহেরসহ জাসদের নেতারা অবস্থান করছিলেন। কিন্তু তারা সেটা করতে পারেনি।’

অধ্যাপক হোসেন বলেন, ‘গণবাহিনীর সংগে যুক্ত সৈনিকরাই জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিলো।’

‘জিয়াউর রহমান তাদেরকে বলেছিলেন যে, কর্ণেল তাহের তাঁর বন্ধু এবং তাঁকেই যেন তারা এখানে নিয়ে আসে। এভাবে তারা কিছুটা প্রতারিতও হয়েছিলো। তাদের ওপর সুনির্দিষ্ট যে নির্দেশ ছিলো তা তারা করতে পারেনি।’

কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) শাফায়াত জামিল

এদিকে ৭ নবেম্বর সকালেই কর্ণেল কে. এন. হুদার সংগে ঢাকায় রংপুর থেকে আসা ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে হত্যা করা হয় খালেদ মোশাররফ, কর্ণেল কে. এন. হুদা এবং ল্যাফটেনেন্ট কর্ণেল এ. টি. এম. হায়দারকে। খালেদ মোশারফকে কার নির্দেশে এবং কেন হত্যা করা হয়েছিলো তার কোনো সুনির্দিষ্ট তদন্ত হয়নি এবং সেই হত্যার বিচারও এখনো হয়নি।

ক্ষমতার কেন্দ্রে জিয়াউর রহমান:

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের রেডিও ভাষণের পর অভ্যুত্থানে গণবাহিনীর ভূমিকা চাপা পড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মে যে, এটি পুরোপুরিই জিয়াউর রহমানের অভ্যুত্থান।’

‘৭ নবেম্বরের পর ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। এর কিছুদিন পর ২৪ নবেম্বর কর্ণেল তাহেরকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সামরিক আদালতে ফাঁসি দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে কর্ণেল তাহেরের সেই বিচারকে অবৈধ ঘোষণা করেন।’

১৯৮১ সাল পর্যন্ত উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের মে-তে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁকে হত্যা করা হয়।

সূত্র: বিবিসি (ভয়েস বাংলা’র বানান রীতিতে)

সম্পর্কিত

যুক্তরাজ্যে নতুন হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম

ডেস্ক রিপোর্ট

খালাস পেলেন সালাউদ্দিন আহমেদ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য মৃত্যুপুরী দক্ষিণ আফ্রিকা

ডেস্ক রিপোর্ট

সৌদিতে চাকরি হারিয়েছেন ৭১ শতাংশ প্রবাসী, মহাবিপাকে বাংলাদেশিরা

ডেস্ক রিপোর্ট

অবশেষে খাশোগি হত্যার কথা স্বীকার করলো সৌদিআরব

ডেস্ক রিপোর্ট

জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত